ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ের পর প্রেমিকের হাত ধরে পলায়ন, পরে ঝুলন্ত অবস্থায় নববধূর লাশ উদ্ধার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা-এ সুচনা (১৮) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৭ মে) পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকায় দেওলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন বাবুর ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা সোহরাব আলী তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ঘাটাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে শাওয়াল (২৫), ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবুসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে মধুপুর উপজেলা-এর আলোকদিয়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আলম মিয়ার (২২) সঙ্গে পারিবারিকভাবে সুচনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও পূর্ব পরিচিত যুবক শাওয়াল বিভিন্নভাবে সুচনাকে বিরক্ত ও প্ররোচিত করতে থাকে বলে পরিবারের দাবি।

গত ১২ মে সুচনা বাবার বাড়ি থেকে দেবর সোহাগ মিয়ার সঙ্গে স্বামীর বাড়ি আলোকদিয়ায় যান। পরে ১৪ মে শাওয়াল নানা প্রলোভন দেখিয়ে সুচনাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার সংগ্রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবু মোবাইল ফোনে সুচনার বাবা সোহরাব আলীকে জানান, সুচনা ও শাওয়াল তার হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘাটাইলে তার ভাড়া বাসায় এলে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

এর কিছু সময় পর দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহারুল ইসলাম খোকনকে ফোন করে জানানো হয়, সুচনা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে পরিবার তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। চিকিৎসক জানান, সুচনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের বাবা সোহরাব আলী অভিযোগ করে বলেন, মেয়েকে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহারুল ইসলাম খোকন জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য রোববার সন্ধ্যায় সব পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল। তবে তার আগেই খবর আসে, চেয়ারম্যানের ভাড়া বাসার একটি কক্ষে সুচনা আত্মহত্যা করেছেন।

নিহতের স্বামী আলম মিয়া সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সংগ্রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবু বলেন, “শাওয়াল আমার চাচাত ভাইয়ের ছেলে। কিছুদিন আগে জানতে পারি, সে একজনের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছে। পরে তাদের খুঁজে বের করে আমার বাসায় আনি, যাতে পারিবারিকভাবে বিষয়টির সমাধান করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “রোববার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সুচনা একটি কক্ষে ঢুকে আত্মহত্যা করেন। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

ঘটনার সময় তিনি ও তার স্ত্রী বাসায় ছিলেন না বলেও দাবি করেন চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন বাসায় সুচনা, শাওয়ালের মা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিয়ের পর প্রেমিকের হাত ধরে পলায়ন, পরে ঝুলন্ত অবস্থায় নববধূর লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা-এ সুচনা (১৮) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৭ মে) পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকায় দেওলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন বাবুর ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা সোহরাব আলী তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ঘাটাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে শাওয়াল (২৫), ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবুসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে মধুপুর উপজেলা-এর আলোকদিয়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আলম মিয়ার (২২) সঙ্গে পারিবারিকভাবে সুচনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও পূর্ব পরিচিত যুবক শাওয়াল বিভিন্নভাবে সুচনাকে বিরক্ত ও প্ররোচিত করতে থাকে বলে পরিবারের দাবি।

গত ১২ মে সুচনা বাবার বাড়ি থেকে দেবর সোহাগ মিয়ার সঙ্গে স্বামীর বাড়ি আলোকদিয়ায় যান। পরে ১৪ মে শাওয়াল নানা প্রলোভন দেখিয়ে সুচনাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার সংগ্রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবু মোবাইল ফোনে সুচনার বাবা সোহরাব আলীকে জানান, সুচনা ও শাওয়াল তার হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘাটাইলে তার ভাড়া বাসায় এলে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

এর কিছু সময় পর দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহারুল ইসলাম খোকনকে ফোন করে জানানো হয়, সুচনা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে পরিবার তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। চিকিৎসক জানান, সুচনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের বাবা সোহরাব আলী অভিযোগ করে বলেন, মেয়েকে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহারুল ইসলাম খোকন জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য রোববার সন্ধ্যায় সব পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল। তবে তার আগেই খবর আসে, চেয়ারম্যানের ভাড়া বাসার একটি কক্ষে সুচনা আত্মহত্যা করেছেন।

নিহতের স্বামী আলম মিয়া সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সংগ্রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবু বলেন, “শাওয়াল আমার চাচাত ভাইয়ের ছেলে। কিছুদিন আগে জানতে পারি, সে একজনের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছে। পরে তাদের খুঁজে বের করে আমার বাসায় আনি, যাতে পারিবারিকভাবে বিষয়টির সমাধান করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “রোববার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সুচনা একটি কক্ষে ঢুকে আত্মহত্যা করেন। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

ঘটনার সময় তিনি ও তার স্ত্রী বাসায় ছিলেন না বলেও দাবি করেন চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন বাসায় সুচনা, শাওয়ালের মা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”