ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উদ্বোধনী মঞ্চায়ন

লিভিং থিয়েটারের আদলে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ মঞ্চায়ন শুক্রবার

বিনোদন ডেস্ক শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোরডটকম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

প্রচলিত নাট্যরীতির একেবারেই বাইরে গিয়ে লিভিং থিয়েটারের নান্দনিকতা ও পরীক্ষামূলক ভাষায় নতুন প্রযোজনা নিয়ে হাজির হচ্ছে নাট্যদল নাট্যধারা। ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ শিরোনামের নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে কাল (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে।

 

লিভিং থিয়েটারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দর্শক ও মঞ্চের প্রচলিত দূরত্ব কমিয়ে নাট্যঘটনাকে আরও প্রত্যক্ষ ও অনুভবনির্ভর করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে এ প্রযোজনায়। শরীরী ভাষা, প্রতীকী অভিনয়, আলো-আঁধারি, শব্দ ও আবহ নির্মাণকে নাটকের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

 

নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র নাদিয়া মুরাদ—ইরাকের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের এক তরুণী, যিনি উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দিত্ব ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। পরবর্তীতে পালিয়ে ইউরোপে আশ্রয় নিয়ে মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হন তিনি। তাঁর সংগ্রাম ও সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

তবে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ শুধু নাদিয়া মুরাদের ব্যক্তিজীবনের গল্প নয়। যুদ্ধ, রাষ্ট্র, মৌলবাদ, বিশ্বরাজনীতি, অর্থনৈতিক স্বার্থ, জাতিসত্তার ওপর আঘাত এবং মানবিক বিপর্যয়ের মতো সমকালীন নানা সংকট উঠে এসেছে নাটকের বিষয়বস্তুতে।

নাট্যধারার ভাষ্য অনুযায়ী, নাদিয়ার জীবনকাহিনিকে ব্যক্তিগত আত্মজীবনী হিসেবে নয়, বরং সময় ও ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। দর্শককে শুধু গল্পের দর্শক না রেখে নাট্যঘটনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি করাই এ প্রযোজনার অন্যতম লক্ষ্য।

 

নাটকের শেষাংশে উঠে আসবে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—

নাদিয়াই কি পৃথিবীর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য দোজখের শেষ মেয়ে?

চলমান যুদ্ধই কি পৃথিবীর শেষ যুদ্ধ?

মৌলবাদের তৈরি দোজখই কি পৃথিবীর শেষ দোজখ?

নাদিয়াই কি পৃথিবীর শেষ দোজখের শেষ মেয়ে?

আর যুদ্ধশিশু কি পরিকল্পিত?

 

নাটকটি রচনা করেছেন কবি,সাহিত্যিক নাট্যকার আনিসুর রহমান। তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কৃতি সন্তান। তার লেখা নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন আশীষ খন্দকার।

অভিনয়ে রয়েছেন মো. কামাল হোসেন, ফাহমিদা রহমান তৃষা, রিয়াদ মাহমুদ, হাফসা আক্তার, মো. আব্দুল আজিজ, মো. রফিকুল ইসলাম, রহিম পারভেজ, আল হাছিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর সিকদার, ইমতিয়াজ আহমেদ দুলু ও হাফসা মাহমুদ ঋদ্ধি।

 

নেপথ্যে আছেন নাট্যকার আনিসুর রহমান নিজেই। নাট্যনির্মাণের পাশাপাশি সঙ্গীত ও পোশাক পরিকল্পনায় রয়েছেন আশীষ খন্দকার। সহযোগী নির্দেশক রিয়াদ মাহমুদ। মঞ্চ ও আলো পরিকল্পনা করেছেন পলাশ সেন হেনরী।

 

নাটকটির নির্মানে সহযোগীতায় রয়েছে বিডিজবস ডট কম ও সাইমন কালিনারী ইনিস্টিটিউট।

 

লিভিং থিয়েটারের পরীক্ষামূলক ভাষায় নির্মিত ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ সমকালীন বাংলা মঞ্চনাটকে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন অপেক্ষা ২৮ আগস্টের উদ্বোধনী মঞ্চায়নের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উদ্বোধনী মঞ্চায়ন

লিভিং থিয়েটারের আদলে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ মঞ্চায়ন শুক্রবার

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

প্রচলিত নাট্যরীতির একেবারেই বাইরে গিয়ে লিভিং থিয়েটারের নান্দনিকতা ও পরীক্ষামূলক ভাষায় নতুন প্রযোজনা নিয়ে হাজির হচ্ছে নাট্যদল নাট্যধারা। ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ শিরোনামের নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে কাল (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে।

 

লিভিং থিয়েটারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দর্শক ও মঞ্চের প্রচলিত দূরত্ব কমিয়ে নাট্যঘটনাকে আরও প্রত্যক্ষ ও অনুভবনির্ভর করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে এ প্রযোজনায়। শরীরী ভাষা, প্রতীকী অভিনয়, আলো-আঁধারি, শব্দ ও আবহ নির্মাণকে নাটকের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

 

নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র নাদিয়া মুরাদ—ইরাকের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের এক তরুণী, যিনি উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দিত্ব ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। পরবর্তীতে পালিয়ে ইউরোপে আশ্রয় নিয়ে মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হন তিনি। তাঁর সংগ্রাম ও সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

তবে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ শুধু নাদিয়া মুরাদের ব্যক্তিজীবনের গল্প নয়। যুদ্ধ, রাষ্ট্র, মৌলবাদ, বিশ্বরাজনীতি, অর্থনৈতিক স্বার্থ, জাতিসত্তার ওপর আঘাত এবং মানবিক বিপর্যয়ের মতো সমকালীন নানা সংকট উঠে এসেছে নাটকের বিষয়বস্তুতে।

নাট্যধারার ভাষ্য অনুযায়ী, নাদিয়ার জীবনকাহিনিকে ব্যক্তিগত আত্মজীবনী হিসেবে নয়, বরং সময় ও ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। দর্শককে শুধু গল্পের দর্শক না রেখে নাট্যঘটনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি করাই এ প্রযোজনার অন্যতম লক্ষ্য।

 

নাটকের শেষাংশে উঠে আসবে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—

নাদিয়াই কি পৃথিবীর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য দোজখের শেষ মেয়ে?

চলমান যুদ্ধই কি পৃথিবীর শেষ যুদ্ধ?

মৌলবাদের তৈরি দোজখই কি পৃথিবীর শেষ দোজখ?

নাদিয়াই কি পৃথিবীর শেষ দোজখের শেষ মেয়ে?

আর যুদ্ধশিশু কি পরিকল্পিত?

 

নাটকটি রচনা করেছেন কবি,সাহিত্যিক নাট্যকার আনিসুর রহমান। তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কৃতি সন্তান। তার লেখা নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন আশীষ খন্দকার।

অভিনয়ে রয়েছেন মো. কামাল হোসেন, ফাহমিদা রহমান তৃষা, রিয়াদ মাহমুদ, হাফসা আক্তার, মো. আব্দুল আজিজ, মো. রফিকুল ইসলাম, রহিম পারভেজ, আল হাছিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর সিকদার, ইমতিয়াজ আহমেদ দুলু ও হাফসা মাহমুদ ঋদ্ধি।

 

নেপথ্যে আছেন নাট্যকার আনিসুর রহমান নিজেই। নাট্যনির্মাণের পাশাপাশি সঙ্গীত ও পোশাক পরিকল্পনায় রয়েছেন আশীষ খন্দকার। সহযোগী নির্দেশক রিয়াদ মাহমুদ। মঞ্চ ও আলো পরিকল্পনা করেছেন পলাশ সেন হেনরী।

 

নাটকটির নির্মানে সহযোগীতায় রয়েছে বিডিজবস ডট কম ও সাইমন কালিনারী ইনিস্টিটিউট।

 

লিভিং থিয়েটারের পরীক্ষামূলক ভাষায় নির্মিত ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ সমকালীন বাংলা মঞ্চনাটকে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন অপেক্ষা ২৮ আগস্টের উদ্বোধনী মঞ্চায়নের।