ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস

মধুপুরে তিন প্রবীণের শেষ আশ্রয় বড়বাড়ির পারিবারিক বৃদ্ধাশ্রম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ০২:৩০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

প্রায় ২৫ বছর আগে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া বড়বাড়ির সামনের সড়কে পা ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিলেন বাছিরন বেওয়া (৯৫)। অসহায় বৃদ্ধাকে দেখে থমকে দাঁড়ান ওই বাড়ির মাফরুজা বেগম। কথা বলে জানতে পারেন, স্বামী আসকর আলী মারা যাওয়ার পর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি কাজ করে জীবিকা চালাতেন বাছিরন। এক চেয়ারম্যানের বাড়িতে কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে পা ভাঙে তার। ছেলে বাছেদের সংসারে জায়গা না পেয়ে ভাঙা পায়ে মানুষের সাহায্য নিয়ে দিন কাটছিল তার। বৃদ্ধার এই অসহায়ত্ব মাফরুজা বেগমকে নাড়া দেয়। নিজের বাড়িতেই তিনি গড়ে তোলেন একটি পারিবারিক বৃদ্ধাশ্রম। বাছিরনকে দিয়েই শুরু হয় সেই আশ্রয়ের পথচলা। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সেখানেই নিরাপদে আছেন তিনি। মাঝে মধ্যে ছেলে বাছেদের বাড়িতে বেড়াতে গেলেও বড়বাড়ির আশ্রমই এখন তার স্থায়ী ঠিকানা।

এখানে প্রবীণদের অনেকে সন্তানদের ডাকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। তবে যাদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও নেই, বর্তমানে তাদের তিনজন রয়েছেন এই আশ্রমে। উদ্যোক্তা মাফরুজা বেগম মারা গেলেও তার ছেলে মাহফুজুল আলম রুমেল মায়ের সেই মানবিক উদ্যোগ ধরে রেখেছেন। থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা—সবকিছুর ব্যবস্থা করছেন তিনি।

আশ্রমের আরেক বাসিন্দা হাওয়া বেওয়া। স্বামী আমান আলী মারা যাওয়ার পর বাবার বাড়িতে ছেলে হাবিবুর রহমানকে নিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। পরে বাবাও মারা যান। একমাত্র ছেলে মারা যাওয়ার পর কোথাও ঠাঁই না পেয়ে প্রায় তিন বছর আগে প্রতিবেশীর সহায়তায় এখানে আসেন। হাওয়া বেওয়া বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর এখানে আসার তিন বছর পূর্ণ হবে। এখানে আমি নিরাপদে আছি। বাকি জীবনটুকু এখানেই কাটাতে চাই।’

৮৫ বছর বয়সি জয়তন বেওয়া প্রায় ১০ বছর ধরে এখানে আছেন। সংসার জীবনের শুরুতেই স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র সন্তান ছোট মেয়েকে নিয়ে কঠিন জীবন পার করেছেন তিনি। মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়ে ছিলেন। সেই মেয়েও কয়েক বছর আগে বিধবা হওয়ায় তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই এই আশ্রমকেই জীবনের শেষ ঠিকানা মনে করেন তিনি।

১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে এই তিন নারীর প্রত্যাশা—জীবনের শেষ দিনগুলো যেন নিরাপদে, সম্মানে ভালোবাসায় কাটে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত করে তাদের দিন কাটে। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও পরস্পরই এখন তারাই তাদের আপনজন। আর আশ্রমের সেবায় নিয়োজিত পরিবারের সদস্যরা হয়ে উঠেছেন তাদের আপন মানুষের মতো।

প্রবীণদের আবাসনের পাশাপাশি আশ্রমটি প্রশিক্ষণ ও ধর্মীয় শিক্ষার কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস

মধুপুরে তিন প্রবীণের শেষ আশ্রয় বড়বাড়ির পারিবারিক বৃদ্ধাশ্রম

আপডেট সময় : ০২:৩০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

প্রায় ২৫ বছর আগে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া বড়বাড়ির সামনের সড়কে পা ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিলেন বাছিরন বেওয়া (৯৫)। অসহায় বৃদ্ধাকে দেখে থমকে দাঁড়ান ওই বাড়ির মাফরুজা বেগম। কথা বলে জানতে পারেন, স্বামী আসকর আলী মারা যাওয়ার পর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি কাজ করে জীবিকা চালাতেন বাছিরন। এক চেয়ারম্যানের বাড়িতে কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে পা ভাঙে তার। ছেলে বাছেদের সংসারে জায়গা না পেয়ে ভাঙা পায়ে মানুষের সাহায্য নিয়ে দিন কাটছিল তার। বৃদ্ধার এই অসহায়ত্ব মাফরুজা বেগমকে নাড়া দেয়। নিজের বাড়িতেই তিনি গড়ে তোলেন একটি পারিবারিক বৃদ্ধাশ্রম। বাছিরনকে দিয়েই শুরু হয় সেই আশ্রয়ের পথচলা। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সেখানেই নিরাপদে আছেন তিনি। মাঝে মধ্যে ছেলে বাছেদের বাড়িতে বেড়াতে গেলেও বড়বাড়ির আশ্রমই এখন তার স্থায়ী ঠিকানা।

এখানে প্রবীণদের অনেকে সন্তানদের ডাকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। তবে যাদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও নেই, বর্তমানে তাদের তিনজন রয়েছেন এই আশ্রমে। উদ্যোক্তা মাফরুজা বেগম মারা গেলেও তার ছেলে মাহফুজুল আলম রুমেল মায়ের সেই মানবিক উদ্যোগ ধরে রেখেছেন। থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা—সবকিছুর ব্যবস্থা করছেন তিনি।

আশ্রমের আরেক বাসিন্দা হাওয়া বেওয়া। স্বামী আমান আলী মারা যাওয়ার পর বাবার বাড়িতে ছেলে হাবিবুর রহমানকে নিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। পরে বাবাও মারা যান। একমাত্র ছেলে মারা যাওয়ার পর কোথাও ঠাঁই না পেয়ে প্রায় তিন বছর আগে প্রতিবেশীর সহায়তায় এখানে আসেন। হাওয়া বেওয়া বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর এখানে আসার তিন বছর পূর্ণ হবে। এখানে আমি নিরাপদে আছি। বাকি জীবনটুকু এখানেই কাটাতে চাই।’

৮৫ বছর বয়সি জয়তন বেওয়া প্রায় ১০ বছর ধরে এখানে আছেন। সংসার জীবনের শুরুতেই স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র সন্তান ছোট মেয়েকে নিয়ে কঠিন জীবন পার করেছেন তিনি। মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়ে ছিলেন। সেই মেয়েও কয়েক বছর আগে বিধবা হওয়ায় তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই এই আশ্রমকেই জীবনের শেষ ঠিকানা মনে করেন তিনি।

১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে এই তিন নারীর প্রত্যাশা—জীবনের শেষ দিনগুলো যেন নিরাপদে, সম্মানে ভালোবাসায় কাটে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত করে তাদের দিন কাটে। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও পরস্পরই এখন তারাই তাদের আপনজন। আর আশ্রমের সেবায় নিয়োজিত পরিবারের সদস্যরা হয়ে উঠেছেন তাদের আপন মানুষের মতো।

প্রবীণদের আবাসনের পাশাপাশি আশ্রমটি প্রশিক্ষণ ও ধর্মীয় শিক্ষার কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে।