ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে বিএনপি নেতৃবৃন্দ
কয়েক মিনিটের ঝড়ে কৃষকের স্বপ্ন বিধ্বস্ত, ক্ষতি প্রায় ৩০ কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০৭:২২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

মাত্র কয়েক মিনিটের আকস্মিক বৃষ্টি -ঝড়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলের ২৮০ হেক্টর জমির কলা ও পেঁপের বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে ফলন্ত কলাগাছ। এতে প্রায় ৩০০/৪০০ কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
বুধবার দুপুর ১২টা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের দিকে মধুপুরের শোলাকুড়ি, অরণখোলা, বেরিবাইদ, ফুলবাগচালা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামে হঠাৎ তীব্র ঝড় শুরু হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ে কৃষকের চোখের সামনেই একের পর এক কলাগাছ মাটিতে পড়ে যায়। কোথাও গাছের মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও পুরো বাগানই উপড়ে গেছে। এই ঝড় ও বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে মধুপুর- মুক্তাগাছা সীমানা এলাকার কামারিয়া গ্রামের আফেজ মন্ডলের ছেলে মজিবর(৩০) মারা যাওযার খবর পাওয়া গেছে।
হরিণধরা গ্রামের কৃষক নূর মুহাম্মদ বলেন, তাঁর দুই বিঘা পেঁপে ও পাঁচ বিঘা লাউয়ের ফসল নষ্ট হয়েছে। গাবগাইছা গ্রামের আবেদ আলীর প্রায় ১ হাজার ৭০০টি কলাগাছ ভেঙে গেছে। এতে তাঁর প্রায় ৮ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। একই গ্রামের জিয়াউল হকের প্রায় ৫০ বিঘা জমির কলাবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, কলা ও পেঁপেতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আব্দুস ছাত্তারের ৭ হাজার কলা ও ৩ হাজার পেঁপেগাছ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৫ লাখ টাকা।
অরণখোলার আমলীতলা এলাকার কৃষক আজিজুল মিয়া ৪৫ শতাংশ জমিতে ৫০০ কলাগাছ চাষ করেছিলেন। এ জন্য এনজিও থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঝড়ে তাঁর বাগানও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কৃষি বিভাগের লোকজন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় সফরে থাকায় তাঁর পক্ষ থেকে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারসহ দলের নেতাকর্মীরাও এলাকার ক্ষতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাঁরা শোলাকুড়ি ইউনিয়নের জয়নাগাছা, হরিণধরা, সাধুপাড়া, গাবগাইছাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন তারা।
জাকির হোসেন সরকার বলেন, মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে থাকায় নিজে আসতে পারেননি। তাঁর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুর্দশার কথা মন্ত্রীকে জানানো হবে। কৃষকরা দাবি করেছেন ক্ষতি পুষিয়ে উঠে দাঁড়ানোর কোনো ব্যবস্থা করতে। মন্ত্রীর সাথে কথা বলে ব্যাংকে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থার পথ খোঁজার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবিএম খায়রুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, ৩/৪ টি ইউনিয়নের ৫০৬ হেক্টর জমির উপর দিয়ে ঝড়টি বয়ে গেছে। এতে ২৭২ হেক্টর কলা, সাড়ে ৫ হেক্টর পেঁপের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। আগামী রোববারের মধ্যে শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। জানান, ক্ষতি আনুমানিক ৩০ কোটি টাকার সম পরিমাণ। তথ্য পাওয়া গেলে সঠিক হিসাব দেয়া যাবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, ধারদেনা ও ব্যাংকঋণ নিয়ে করা চাষ কয়েক মিনিটের ঝড়ে শেষ হয়ে গেছে। ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে তাঁরা দিশেহারা। দ্রুত সরকারি সহায়তা, পুনর্বাসন ও সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা না করলে এই বিপুল ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।











