ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পূজায় শুভেচ্ছা, অনুদান ও প্রতিশ্রুতি—

নবমীর রাতে মণ্ডপে মণ্ডপে মধুপুরের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের সরগর প্রচার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

মধুপুর পৌরসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা থেমে

নেই। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগের পাশাপাশি এবার দুর্গাপূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে টানার প্রতিযোগিতা ছিল প্রবল। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, শুভেচ্ছা বিনিময়, অনুদান প্রদান, ভোট প্রত্যাশা এবং পৌরসভাকে আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করার প্রতিশ্রুতিতে সরব ছিলেন তারা।

টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার ২৭টি পূজামণ্ডপের সামনে গত এক সপ্তাহ থেকে শোভা পাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো ব্যানার। এসব ব্যানারে স্থান পেয়েছে নানা প্রতিশ্রুতি। দুর্গাপূজার নবমীর রাতে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত পূজামণ্ডপগুলোতে প্রার্থীদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো।

মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেনের তৎপরতা আগে থেকেই দৃশ্যমান। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাঁর উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চলছে। অন্যদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্সও মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশায় ব্যাপক সক্রিয় হয়েছেন। দলের এই দুই শীর্ষ নেতার পৃথক কর্মসূচি ঘিরে পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দুটি ধারা দৃশ্যমান হচ্ছে। এর প্রভাব মূল দলেও রয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে।

এ দুজনের বাইরে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে মাঠে রয়েছেন পৌর বিএনপির সহসভাপতি আনোয়ারা খন্দকার লিলি। তিনি পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত নেতা সরকার সহিদের স্ত্রী। এ ছাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ পান্নার ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনও প্রার্থিতার আগাম জানান দিচ্ছে। বিগত পৌর নির্বাচনে তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

পৌর বিএনপির আরেক সহসভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াও প্রচারে সক্রিয়। পৌরসভাকে স্মার্ট ও নিরাপদ করার পাশাপাশি সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা তুলে ধরছেন তিনি।

নবমীর রাতে মোতালিব হোসেন ও খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, মতবিনিময় ও উপহার প্রদান করেন। মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য তথা মন্ত্রীর পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন উপস্থিতি ও তৎপরতা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মধুপুর পৌরসভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে পূর্ব থেকেই আলোচিত বিষয়। ফলে তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সমর্থন আদায়ের চেষ্টা সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সেই প্রচেষ্টাই এবার আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পূজামণ্ডপে শুভেচ্ছা জানানো থেকে শুরু করে অনুদান প্রদান ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—সব ক্ষেত্রেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। নির্বাচন কবে হবে, তা অনিশ্চিত হলেও মধুপুর পৌরসভার মেয়র পদ ঘিরে আগাম রাজনৈতিক তৎপরতা ইতোমধ্যে জমে উঠেছে। এখন অপেক্ষা শুধু নির্বা চন সিডিউলের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পূজায় শুভেচ্ছা, অনুদান ও প্রতিশ্রুতি—

নবমীর রাতে মণ্ডপে মণ্ডপে মধুপুরের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের সরগর প্রচার

আপডেট সময় : ১২:৩৮:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মধুপুর পৌরসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা থেমে

নেই। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগের পাশাপাশি এবার দুর্গাপূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে টানার প্রতিযোগিতা ছিল প্রবল। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, শুভেচ্ছা বিনিময়, অনুদান প্রদান, ভোট প্রত্যাশা এবং পৌরসভাকে আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করার প্রতিশ্রুতিতে সরব ছিলেন তারা।

টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার ২৭টি পূজামণ্ডপের সামনে গত এক সপ্তাহ থেকে শোভা পাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো ব্যানার। এসব ব্যানারে স্থান পেয়েছে নানা প্রতিশ্রুতি। দুর্গাপূজার নবমীর রাতে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত পূজামণ্ডপগুলোতে প্রার্থীদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো।

মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেনের তৎপরতা আগে থেকেই দৃশ্যমান। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাঁর উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চলছে। অন্যদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্সও মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশায় ব্যাপক সক্রিয় হয়েছেন। দলের এই দুই শীর্ষ নেতার পৃথক কর্মসূচি ঘিরে পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দুটি ধারা দৃশ্যমান হচ্ছে। এর প্রভাব মূল দলেও রয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে।

এ দুজনের বাইরে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে মাঠে রয়েছেন পৌর বিএনপির সহসভাপতি আনোয়ারা খন্দকার লিলি। তিনি পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত নেতা সরকার সহিদের স্ত্রী। এ ছাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ পান্নার ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনও প্রার্থিতার আগাম জানান দিচ্ছে। বিগত পৌর নির্বাচনে তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

পৌর বিএনপির আরেক সহসভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াও প্রচারে সক্রিয়। পৌরসভাকে স্মার্ট ও নিরাপদ করার পাশাপাশি সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা তুলে ধরছেন তিনি।

নবমীর রাতে মোতালিব হোসেন ও খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, মতবিনিময় ও উপহার প্রদান করেন। মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য তথা মন্ত্রীর পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন উপস্থিতি ও তৎপরতা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মধুপুর পৌরসভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে পূর্ব থেকেই আলোচিত বিষয়। ফলে তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সমর্থন আদায়ের চেষ্টা সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সেই প্রচেষ্টাই এবার আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পূজামণ্ডপে শুভেচ্ছা জানানো থেকে শুরু করে অনুদান প্রদান ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—সব ক্ষেত্রেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। নির্বাচন কবে হবে, তা অনিশ্চিত হলেও মধুপুর পৌরসভার মেয়র পদ ঘিরে আগাম রাজনৈতিক তৎপরতা ইতোমধ্যে জমে উঠেছে। এখন অপেক্ষা শুধু নির্বা চন সিডিউলের।