ঈদের আগের সন্ধ্যায় লাশ নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ
মধুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০৮:২৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর এলাকার গোপদ গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত সুজন মিয়া নামে এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের লাশ গ্রামে পৌঁছালে ঈদের আগের সন্ধ্যায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে স্থানীয় গ্রামবাসী।
জানা যায়, মধুপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোপদ গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর ছেলে
মো. আবু সাইদেন সঙ্গে একই এলাকার মো. ফরহাদ হোসেন কালু মো. আরশেদ আলী , মো. মনির হোসেন , মো. গাজীউর রহমান,মো. আল আমিন, মো. সোহেল , হাফিজা বেগম,এবং বিত্তিবাড়ী এলাকার মো. মিনানুর এর দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধীয় জমিটি গোপদ মৌজার সাবেক দাগ নং-৩৮৬ ও ৩৮৭ এবং হাল দাগ নং-১০৮৩ ও ১০৮৪ এর আওতাভুক্ত প্রায় ৪১ শতাংশ জমি বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২২ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আবু সাইদের ভাগিনা সোহাগ বিরোধীয় জমিতে কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন বাদীর ভাতিজা সুজন মিয়া, চাচাতো ভাই মীর আলী এবং স্ত্রী মোছা. জাহানারা বেগম। হামলায় সুজন মিয়াসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত হন অন্তঃসত্ত্বা জাহানারা বেগমও।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সুজন মিয়া, মীর আলী, জাহানারা বেগম ও দোলোয়ারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সুজন মিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোরে তিনি মারা যান।
ময়নাতদন্ত শেষে ওই রাতেই স্থানীয় কবরস্থানে সুজন মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সন্ধ্যায় গোপদ বাজারে তার মরদেহ পৌঁছালে এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, নিহত সুজন বিবদমান জমির সরাসরি পক্ষভুক্ত না হলেও স্থানীয় বিরোধে জড়িয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোহেল হোসেন আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।



















