ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধনবাড়ীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

মধুপুর করেসপন্ডন্ট, শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী সরকারি কলেজের চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী লিমা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিক মো. মারুফ হোসেন শান্তের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তুলে তাকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল মোড়ে ভূমিহীন সমিতি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিজেরা করি উন্নয়ন সংগঠনের ধনবাড়ী উপজেলা সমন্বয়ক শশী কুমার ত্রিপুরা, সিপিবির ধনবাড়ী উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুপিটার, উপজেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি কছিম উদ্দিন, নিহত লিমার বাবা সুরুজ আলী, বোন সুমি বেগম ও ফুফু রমিছা বেগম।
জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের সুরুজ আলীর মেয়ে লিমা আক্তার ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ধনবাড়ী পৌর এলাকার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তের সঙ্গে লিমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত শনিবার সকালে শান্ত ফোন করে লিমাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। পরিবারের দাবি, পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা বের হলেও পরে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।
লিমার পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ছেলেপক্ষ স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করে। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে লিমাকে তার বড় বোনের জামাই কাবেলের বাড়িতে রেখে যায়। পরদিন রোববার সকাল ১১টার দিকে ওই বাড়ির একটি কক্ষে ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় লিমাকে দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা ও মানসিক চাপে লিমা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের মা শাহিদা বেগম বলেন, “মারুফ হোসেন শান্ত আমার মেয়েকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আমার মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মারুফ হোসেন শান্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লিমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ধনবাড়ীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১০:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী সরকারি কলেজের চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী লিমা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিক মো. মারুফ হোসেন শান্তের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তুলে তাকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল মোড়ে ভূমিহীন সমিতি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিজেরা করি উন্নয়ন সংগঠনের ধনবাড়ী উপজেলা সমন্বয়ক শশী কুমার ত্রিপুরা, সিপিবির ধনবাড়ী উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুপিটার, উপজেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি কছিম উদ্দিন, নিহত লিমার বাবা সুরুজ আলী, বোন সুমি বেগম ও ফুফু রমিছা বেগম।
জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রামের সুরুজ আলীর মেয়ে লিমা আক্তার ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ধনবাড়ী পৌর এলাকার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তের সঙ্গে লিমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত শনিবার সকালে শান্ত ফোন করে লিমাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। পরিবারের দাবি, পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা বের হলেও পরে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।
লিমার পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ছেলেপক্ষ স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করে। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে লিমাকে তার বড় বোনের জামাই কাবেলের বাড়িতে রেখে যায়। পরদিন রোববার সকাল ১১টার দিকে ওই বাড়ির একটি কক্ষে ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় লিমাকে দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা ও মানসিক চাপে লিমা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের মা শাহিদা বেগম বলেন, “মারুফ হোসেন শান্ত আমার মেয়েকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আমার মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মারুফ হোসেন শান্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লিমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।