সংযম, নৈতিক শিক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নতুন ইউএনওর
মধুপুরকে শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের উপজেলায় রূপ দিতে সবার সহযোগিতা চাইলেন সাইফুল ইসলাম
- আপডেট সময় : ১১:০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে

“অবাধে চলাফেরা, নিজেকে ইচ্ছেমতো মেলে ধরা কিংবা সমাজে যা ইচ্ছে তাই করার নাম স্বাধীনতা নয়। স্বাধীনতা হলো সংযত থেকে নিয়মের মধ্যে চলা এবং পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও নিজের প্রতি দায়িত্ববোধ ও কমিটমেন্ট বজায় রেখে জীবন পরিচালনা করা।”
স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এভাবেই বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার নবযোগদানকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুধী সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম নিজেই । অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন।
বক্তব্যে ইউএনও বলেন, সবার বক্তব্যের বিষয় প্রায় একই। মধুপুরের অন্যতম প্রধান সমস্যা মাদক। মাদকের ভয়াবহ ছোবলে তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক আসক্ত ব্যক্তি এমন এক ধরনের ‘স্বাধীনতায়’ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, যেখানে তাদের ভুল কাজে কেউ বাধা দিক—তা তারা মেনে নিতে চায় না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, তরুণদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, নৈতিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একটি তরুণ প্রজন্মই মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়মুক্ত সমাজ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনকেও বর্তমান সময়ের একটি বড় আসক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ইউএনও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়া সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া উচিত নয়। এই আসক্তি অনেক ক্ষেত্রে মাদকের মতোই ক্ষতিকর হয়ে উঠছে এবং সমাজ বিকাশের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় সৃষ্টি করছে।
সভায় বক্তব্য রাখেন মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন খান বাবলু, জামায়াতে ইসলামীর জেলা কর্মপরিষদের নেতা ও সাবেক অধ্যক্ষ মোন্তাজ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার, মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন, উপজেলা স্কাউট সম্পাদক হারুন অর রশীদ ফকির, সাংবাদিক জয়নাল আবেদিন, নাজমুছ সাদাৎ নোমান, হাবিবুর রহমান প্রমুখ প্রতিনিধিরা।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা মধুপুরকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত শান্তির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
জবাবে ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের জনগণের সেবাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, “শান্তির মধুপুরকে আলোকিত মধুপুর হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। প্রশাসনের একার পক্ষে সবকিছু সম্ভব নয়। এজন্য সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতার পাশাপাশি নতুন ও উদ্ভাবনী (ইনোভেটিভ) চিন্তা-ভাবনা ও পরামর্শও প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণকে সঙ্গে নিয়েই একটি নিরাপদ, মানবিক, উন্নয়নমুখী ও মাদকমুক্ত মধুপুর গড়ে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।















