ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুপুরে এআই দিয়ে নারীর আপত্তিকর ছবি, মৌলভীবাজার থেকে সাবেক স্বামী গ্রেপ্তার

মধুপুর করেসপন্ডন্ট, শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.ডটকম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাবেক স্ত্রীর ভুয়া আপত্তিকর ছবি তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগে রাসেল রানা (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। থানায় মামলা রুজুর এক সপ্তাহর মাথায় মৌলভীবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাসেল রানা মধুপুর উপজেলার বেরিবাইদ ইউনিয়নের চুনিয়া গ্রামের মো. H বিয়ে করেন।

অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর রাসেল তাঁর সাবেক স্ত্রীকে নানাভাবে হেনেস্তা বিব্রত শুরু করেন। বিভিন্ন ছবি সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া আপত্তিকর ছবি তৈরি করেন। এসব ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারী ও তাঁর বর্তমান স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২০ জুলাই রাতে তৈরি করা ভুয়া ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ওই নারী গত ১৭ আগস্ট মধুপুর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ও ৮(২) ধারায় আদালতে মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, মধুপুর থানায় ১ সেপ্টেম্বর মামলা এফআই আর হয়। মামলার পর রাসেল আত্মগোপনে চলে যান। ।গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন, মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন এবং নতুন সিম ব্যবহার করে নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করতেন। একপর্যায়ে মৌলভীবাজারের একটি পোলট্রি ফার্মে কাজ নেন।

পুলিশের তথ্যমতে, ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নাদামপুর বাজারসংলগ্ন ওই পোলট্রি ফার্মের কর্মচারীদের থাকার কক্ষ থেকে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই মোবাইল ফোনটি এআই দিয়ে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. সেলিম সিকদার বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাকে টাঙ্গাইল জেলা আদালতে হাজির করা হলে
আটক রাসেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।
বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মধুপুরে এআই দিয়ে নারীর আপত্তিকর ছবি, মৌলভীবাজার থেকে সাবেক স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাবেক স্ত্রীর ভুয়া আপত্তিকর ছবি তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগে রাসেল রানা (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। থানায় মামলা রুজুর এক সপ্তাহর মাথায় মৌলভীবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাসেল রানা মধুপুর উপজেলার বেরিবাইদ ইউনিয়নের চুনিয়া গ্রামের মো. H বিয়ে করেন।

অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর রাসেল তাঁর সাবেক স্ত্রীকে নানাভাবে হেনেস্তা বিব্রত শুরু করেন। বিভিন্ন ছবি সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া আপত্তিকর ছবি তৈরি করেন। এসব ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারী ও তাঁর বর্তমান স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২০ জুলাই রাতে তৈরি করা ভুয়া ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ওই নারী গত ১৭ আগস্ট মধুপুর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ও ৮(২) ধারায় আদালতে মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, মধুপুর থানায় ১ সেপ্টেম্বর মামলা এফআই আর হয়। মামলার পর রাসেল আত্মগোপনে চলে যান। ।গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন, মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন এবং নতুন সিম ব্যবহার করে নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করতেন। একপর্যায়ে মৌলভীবাজারের একটি পোলট্রি ফার্মে কাজ নেন।

পুলিশের তথ্যমতে, ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নাদামপুর বাজারসংলগ্ন ওই পোলট্রি ফার্মের কর্মচারীদের থাকার কক্ষ থেকে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই মোবাইল ফোনটি এআই দিয়ে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. সেলিম সিকদার বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাকে টাঙ্গাইল জেলা আদালতে হাজির করা হলে
আটক রাসেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।
বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।