ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইল-১

মন্ত্রীত্ব পেলেন ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, উচ্ছ্বাসে মধুপুর–ধনবাড়ী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, আর প্রায় সাড়ে চার দশক পর আসন পুনরুদ্ধারের ইতিহাস—এই দুই মাইলফলক ছুঁয়ে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন। এমপি হিসেবে শপথের পরপরই মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়ার খবরে এলাকায় বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ঢেউ।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার জানিয়েছেন, স্বপন ফকির ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং একই সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভাষ্য—“এটি ত্যাগ-অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি, আর মধুপুর-ধনবাড়ীর প্রত্যাশার সম্মান।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে জয়ী হন স্বপন ফকির। দীর্ঘদিন পর আসনটি পুনরুদ্ধার করায় তাকে মন্ত্রী করার দাবি স্থানীয়ভাবে জোরালো ছিল। সেই প্রত্যাশারই বাস্তবায়ন দেখছেন এলাকাবাসী।
টিআইবির মধুপুরের সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সভাপতি বজলুর রশীদ খান বলেন, “এ অঞ্চলে মন্ত্রী প্রাপ্তির ধারাবাহিকতা রক্ষা পেল। এটি আমাদের জন্য গৌরবের।”
শিক্ষক সমাজের প্রত্যাশা—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে মধুপুর-ধনবাড়ীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞান শিক্ষায় নতুন গতি পাবে।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে এ আসন থেকে একাধিক মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন। ২০০৯ সালে গঠিত সরকারে ড. আব্দুর রাজ্জাক খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান; পরে ২০১৮ সালে কৃষিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী নবাবজাদা হাসান আলী চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব পালনকালে মারা যান। উপনির্বাচনে তার মেয়ে আশিকা আকবর এমপি হন। ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব ব্যারিস্টার সালাম তালুকদার এ আসনে পরাজিত হন।এই দীর্ঘ ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে প্রায় ৪৫ বছর পর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয় এনে দিয়ে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়াকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলছেন স্থানীয়রা।

ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ এম. আজিজুর রহমান বলেন, “টাঙ্গাইল-১ ভিআইপি আসন। ৪৫ বছর পর পুনরুদ্ধারের নায়ক হিসেবে স্বপন ফকিরের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া যথোপযুক্ত।”
মধুপুর পৌর শহরের কফি আড্ডার মালিক সাইফুল ইসলাম ফারুক বলেন, “দল তার ত্যাগের মূল্যায়ন করেছে। আমরা অভিনন্দন জানাই।”
নির্বাচিত হওয়ার পর স্বপন ফকির বলেন, “এই জয় মধুপুর ও ধনবাড়ীবাসীর। এখন লক্ষ্য—এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সবার সহযোগিতা চাই।”
টাঙ্গাইল-১ এ এখন একটাই প্রত্যাশা—মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে উন্নয়নের চাকা আরও দ্রুত ঘুরুক, আর রাজনৈতিক অধ্যবসায়ের এই গল্প হয়ে উঠুক নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

টাঙ্গাইল-১

মন্ত্রীত্ব পেলেন ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, উচ্ছ্বাসে মধুপুর–ধনবাড়ী

আপডেট সময় : ০৬:০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, আর প্রায় সাড়ে চার দশক পর আসন পুনরুদ্ধারের ইতিহাস—এই দুই মাইলফলক ছুঁয়ে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন। এমপি হিসেবে শপথের পরপরই মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়ার খবরে এলাকায় বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ঢেউ।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার জানিয়েছেন, স্বপন ফকির ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং একই সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভাষ্য—“এটি ত্যাগ-অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি, আর মধুপুর-ধনবাড়ীর প্রত্যাশার সম্মান।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে জয়ী হন স্বপন ফকির। দীর্ঘদিন পর আসনটি পুনরুদ্ধার করায় তাকে মন্ত্রী করার দাবি স্থানীয়ভাবে জোরালো ছিল। সেই প্রত্যাশারই বাস্তবায়ন দেখছেন এলাকাবাসী।
টিআইবির মধুপুরের সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সভাপতি বজলুর রশীদ খান বলেন, “এ অঞ্চলে মন্ত্রী প্রাপ্তির ধারাবাহিকতা রক্ষা পেল। এটি আমাদের জন্য গৌরবের।”
শিক্ষক সমাজের প্রত্যাশা—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে মধুপুর-ধনবাড়ীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞান শিক্ষায় নতুন গতি পাবে।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে এ আসন থেকে একাধিক মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন। ২০০৯ সালে গঠিত সরকারে ড. আব্দুর রাজ্জাক খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান; পরে ২০১৮ সালে কৃষিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী নবাবজাদা হাসান আলী চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব পালনকালে মারা যান। উপনির্বাচনে তার মেয়ে আশিকা আকবর এমপি হন। ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব ব্যারিস্টার সালাম তালুকদার এ আসনে পরাজিত হন।এই দীর্ঘ ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে প্রায় ৪৫ বছর পর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয় এনে দিয়ে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়াকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলছেন স্থানীয়রা।

ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ এম. আজিজুর রহমান বলেন, “টাঙ্গাইল-১ ভিআইপি আসন। ৪৫ বছর পর পুনরুদ্ধারের নায়ক হিসেবে স্বপন ফকিরের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া যথোপযুক্ত।”
মধুপুর পৌর শহরের কফি আড্ডার মালিক সাইফুল ইসলাম ফারুক বলেন, “দল তার ত্যাগের মূল্যায়ন করেছে। আমরা অভিনন্দন জানাই।”
নির্বাচিত হওয়ার পর স্বপন ফকির বলেন, “এই জয় মধুপুর ও ধনবাড়ীবাসীর। এখন লক্ষ্য—এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সবার সহযোগিতা চাই।”
টাঙ্গাইল-১ এ এখন একটাই প্রত্যাশা—মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে উন্নয়নের চাকা আরও দ্রুত ঘুরুক, আর রাজনৈতিক অধ্যবসায়ের এই গল্প হয়ে উঠুক নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।