ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইল -১ আসনে গ্যাস,রেললাইন সংযোগ ও জেলা ঘোষণার প্রত্যাশা

আনারস,বন,রাবার,কলা নির্ভর শিল্প গড়ে চাকরির ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগীকে পছন্দ ভোটারদের

এস.এম শহীদ সম্পাদক, শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর ডটকম
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল-১ সংসদীয় আসন (মধুপুর-ধনবাড়ী) দুই পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৪২৪ জন। পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটার ৫ হাজার ৪১৭ জন বেশি হওয়ায় এবারের নির্বাচনে নারী ভোটকে প্রার্থী বিজয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন ভোটাররা।
মধুপুর উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৭০ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮ জন। ধনবাড়ীতে পুরুষ ভোটার ৮২ হাজার ৭৩৭ জন ও নারী ভোটার ৮৬ হাজার ৩৩৬ জন। দুই উপজেলাতেই নারী ভোটার সংখ্যায় এগিয়ে। ফলে যিনি নারী ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, তার জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সচেতন ভোটাররা। পাশাপাশি পোস্টাল ভোটও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত স্থানীয়দের। পোস্টাল ভোট ৩ হাজার ৭৩৬। এরমধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৭১৮, নারী ১ হাজার ১৮।এছাড়াও আছেন তৃতীয় লিঙ্গের দুই ভোটার।
এ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী তালিকায় ৬ জনের নাম বা প্রতীক আছে। প্রচার চলেছে ৫ জনের। বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতীক (মোটরসাইকেল)পেয়ে প্রচারের দ্বিতীয় দিন মাঠ ছেড়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী । বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন হয়েছেন (ধানের শীষ) দলীয় প্রার্থী। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর (দাঁড়িপাল্লা)ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী, জাতীয় পার্টির (লাঙল) অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ হোসেন মনি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) হারুন অর রশীদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ( তালা) লে.কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদ প্রার্থী হয়ে জয়ের লক্ষ্যে প্রচার প্রচারণা ও জনসংযোগ করে যাচ্ছেন।

আলাপকালে দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটাররা উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বে সমৃদ্ধ মধুপুর দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল হলেও নানা সংকটে টিকে আছে। আনারসের জন্য বিখ্যাত মধুপুর এখন কলা, বড়ই, পেয়ারা, কমলা, মাল্টা, কফি, ড্রাগনসহ নানা দেশি-বিদেশি ফল চাষের কেন্দ্র হয়ে উঠলেও এসব কৃষিপণ্যের বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। দ্বিতীয় বৃহত্তম রাবার বাগান থাকলেও রাবার শিল্প গড়ে ওঠেনি।
অন্যদিকে ধনবাড়ীতে ছোট শিল্পকারখানা ও পরিবহণ ব্যবসা গড়ে উঠলেও সামগ্রিক উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ। মধুপুর ধনবাড়ীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি “গ্যাস সংযোগ, রেললাইন ও জেলা ঘোষণা” বাস্তবায়ন হয়নি। ম্যাটস নির্মাণ হলেও চালু হয়নি, ১০০ শয্যার হাসপাতাল জনবল সংকটে কার্যকর নয়। খেলাধুলার অবকাঠামো, শিশু পার্কের মতো নাগরিক সুবিধা নেই। নদী দখল, মাদক সমস্যা ও ভয়াবহ যানজট নিত্যদিনের ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলাদা বাসস্ট্যান্ড না থাকায় শহরের এক জায়গায় সব ধরনের যানবাহন দাঁড়ানোয় যানজট চরম আকার ধারণ করেছে। এলাকায় কারিগরি শিক্ষার প্রসার, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব উদ্যোগ চান ভোটাররা। বিশেষ করে আনারস, বন, রাবার,কলা নির্ভর শিল্প গড়ে তোলে চাকরির ক্ষেত্র তৈরির পক্ষে উদ্যোগ নিবেন যিনি তাকে ভোট দিতে চান মধুপুরের জটাবাড়ী গ্রামের জাহিদ, মির্জাবাড়ীর আব্দুল মান্নান, ঘুঘুর বাজারের রাশেদ, বেরিবাইদের জাঙ্গালিয়ার ফেরদৌস, শঠিবাড়ীর ফররুখ আহমেদ, গাংগাইরের পরিতোষ দেবনাথ, ভাইঘাট বাজারের জয়নাল, পান বিক্রেতা জাবেদ আলী, মধুপুর পৌর শহরের গৃহবধু জেসমিন,শিক্ষিকা নিপা, ধনবাড়ী পৌর এলাকার হবিপুরের শরাফত, যদুনাথপুর নতুন বাজারের ব্যবসায়ী ময়নাল, পানকাতার শামসুল হক প্রমুখ।
মধুপুরের গারো জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার, বন রক্ষা ও গারো সংস্কৃতি সংরক্ষণ, গারো, বাঙালি ও বন সংক্রান্ত্র বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদায়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন, সর্বোপরি গারো আদিবাসী বান্ধব প্রার্থীকে ভোট দিবেন গারোরা এমন প্রত্যাশা গারোনত্রী ও নারী সংগঠন আচিক মিচিক সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সুলেখা ম্রং, কবি ফিডেল ডি সাংমা, পরিবেশ আন্দোলনকর্মী বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট শোলাকুড়ির রাতুল মুন্সি।

মধুপুর পৌর শহরের হাটখোলা চায়ের দোকানে আলাপকালে দামপাড়া এলাকার কাঠমিস্ত্রি ছায়েদ আলী ও বোয়ালীর আরফান হুজুর বলেন, “আমরা এমন এমপি চাই, যিনি মানবসেবা করবেন, যাঁর কাছে মানুষ নিজেকে নিরাপদ মনে করবে। সময়ে-অসময়ে পাশে পাবো, সমস্যার কথা খুলে বলতে পারবো। শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে আবেগে ভোট দেবো না—বিচার-বিশ্লেষণ করেই প্রতিনিধি নির্বাচন করবো।”

তবে এ প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে আলোচনা অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন ভোটার জানান, তারা ভোট দিতে যাবেন না; যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে তারা অনিচ্ছুক ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

টাঙ্গাইল -১ আসনে গ্যাস,রেললাইন সংযোগ ও জেলা ঘোষণার প্রত্যাশা

আনারস,বন,রাবার,কলা নির্ভর শিল্প গড়ে চাকরির ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগীকে পছন্দ ভোটারদের

আপডেট সময় : ০১:১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টাঙ্গাইল-১ সংসদীয় আসন (মধুপুর-ধনবাড়ী) দুই পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৪২৪ জন। পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটার ৫ হাজার ৪১৭ জন বেশি হওয়ায় এবারের নির্বাচনে নারী ভোটকে প্রার্থী বিজয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন ভোটাররা।
মধুপুর উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৭০ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮ জন। ধনবাড়ীতে পুরুষ ভোটার ৮২ হাজার ৭৩৭ জন ও নারী ভোটার ৮৬ হাজার ৩৩৬ জন। দুই উপজেলাতেই নারী ভোটার সংখ্যায় এগিয়ে। ফলে যিনি নারী ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, তার জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সচেতন ভোটাররা। পাশাপাশি পোস্টাল ভোটও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত স্থানীয়দের। পোস্টাল ভোট ৩ হাজার ৭৩৬। এরমধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৭১৮, নারী ১ হাজার ১৮।এছাড়াও আছেন তৃতীয় লিঙ্গের দুই ভোটার।
এ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী তালিকায় ৬ জনের নাম বা প্রতীক আছে। প্রচার চলেছে ৫ জনের। বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতীক (মোটরসাইকেল)পেয়ে প্রচারের দ্বিতীয় দিন মাঠ ছেড়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী । বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন হয়েছেন (ধানের শীষ) দলীয় প্রার্থী। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর (দাঁড়িপাল্লা)ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী, জাতীয় পার্টির (লাঙল) অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ হোসেন মনি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) হারুন অর রশীদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ( তালা) লে.কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদ প্রার্থী হয়ে জয়ের লক্ষ্যে প্রচার প্রচারণা ও জনসংযোগ করে যাচ্ছেন।

আলাপকালে দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটাররা উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বে সমৃদ্ধ মধুপুর দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল হলেও নানা সংকটে টিকে আছে। আনারসের জন্য বিখ্যাত মধুপুর এখন কলা, বড়ই, পেয়ারা, কমলা, মাল্টা, কফি, ড্রাগনসহ নানা দেশি-বিদেশি ফল চাষের কেন্দ্র হয়ে উঠলেও এসব কৃষিপণ্যের বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। দ্বিতীয় বৃহত্তম রাবার বাগান থাকলেও রাবার শিল্প গড়ে ওঠেনি।
অন্যদিকে ধনবাড়ীতে ছোট শিল্পকারখানা ও পরিবহণ ব্যবসা গড়ে উঠলেও সামগ্রিক উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ। মধুপুর ধনবাড়ীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি “গ্যাস সংযোগ, রেললাইন ও জেলা ঘোষণা” বাস্তবায়ন হয়নি। ম্যাটস নির্মাণ হলেও চালু হয়নি, ১০০ শয্যার হাসপাতাল জনবল সংকটে কার্যকর নয়। খেলাধুলার অবকাঠামো, শিশু পার্কের মতো নাগরিক সুবিধা নেই। নদী দখল, মাদক সমস্যা ও ভয়াবহ যানজট নিত্যদিনের ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলাদা বাসস্ট্যান্ড না থাকায় শহরের এক জায়গায় সব ধরনের যানবাহন দাঁড়ানোয় যানজট চরম আকার ধারণ করেছে। এলাকায় কারিগরি শিক্ষার প্রসার, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব উদ্যোগ চান ভোটাররা। বিশেষ করে আনারস, বন, রাবার,কলা নির্ভর শিল্প গড়ে তোলে চাকরির ক্ষেত্র তৈরির পক্ষে উদ্যোগ নিবেন যিনি তাকে ভোট দিতে চান মধুপুরের জটাবাড়ী গ্রামের জাহিদ, মির্জাবাড়ীর আব্দুল মান্নান, ঘুঘুর বাজারের রাশেদ, বেরিবাইদের জাঙ্গালিয়ার ফেরদৌস, শঠিবাড়ীর ফররুখ আহমেদ, গাংগাইরের পরিতোষ দেবনাথ, ভাইঘাট বাজারের জয়নাল, পান বিক্রেতা জাবেদ আলী, মধুপুর পৌর শহরের গৃহবধু জেসমিন,শিক্ষিকা নিপা, ধনবাড়ী পৌর এলাকার হবিপুরের শরাফত, যদুনাথপুর নতুন বাজারের ব্যবসায়ী ময়নাল, পানকাতার শামসুল হক প্রমুখ।
মধুপুরের গারো জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার, বন রক্ষা ও গারো সংস্কৃতি সংরক্ষণ, গারো, বাঙালি ও বন সংক্রান্ত্র বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদায়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন, সর্বোপরি গারো আদিবাসী বান্ধব প্রার্থীকে ভোট দিবেন গারোরা এমন প্রত্যাশা গারোনত্রী ও নারী সংগঠন আচিক মিচিক সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সুলেখা ম্রং, কবি ফিডেল ডি সাংমা, পরিবেশ আন্দোলনকর্মী বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট শোলাকুড়ির রাতুল মুন্সি।

মধুপুর পৌর শহরের হাটখোলা চায়ের দোকানে আলাপকালে দামপাড়া এলাকার কাঠমিস্ত্রি ছায়েদ আলী ও বোয়ালীর আরফান হুজুর বলেন, “আমরা এমন এমপি চাই, যিনি মানবসেবা করবেন, যাঁর কাছে মানুষ নিজেকে নিরাপদ মনে করবে। সময়ে-অসময়ে পাশে পাবো, সমস্যার কথা খুলে বলতে পারবো। শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে আবেগে ভোট দেবো না—বিচার-বিশ্লেষণ করেই প্রতিনিধি নির্বাচন করবো।”

তবে এ প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে আলোচনা অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন ভোটার জানান, তারা ভোট দিতে যাবেন না; যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে তারা অনিচ্ছুক ছিলেন।