টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর ও ধনবাড়ী) আসনের
ধনবাড়ীর একই ইউনিয়নের দুই গ্রাম থেকে দুই দলের প্রার্থী, প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর–ধনবাড়ী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একই ইউনিয়নের পাশাপাশি দুই গ্রামের দুই প্রার্থী, একই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হলেও এবার ভিন্ন দুই দলের হয়ে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা। এমনকি ধনবাড়ী উপজেলার অংশে তারাই দুইজন প্রার্থী। বাকিরা মধুপুর উপজেলা অংশের। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ভোটারদের মধ্যে চলছে জোর আলোচনা। তারা হলেন ধনবাড়ী উপজেলার ভাইঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯১ ব্যাচের ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী ও ১৯৯৫ ব্যাচের অ্যাডভোকেট ইলিয়াস হোসেন মনি। ছয় প্রার্থীর মধ্যে তারা দুই জন ধনবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী। তিনি ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ভাইঘাটের সমতকুড় গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা হাসমত আলী। ডা. কাফী ১৯৯১ সালে ভাইঘাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে কাগমারী কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। বিসিএস(চিকিৎসা) কোয়ালিফাইড হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়ে পরে সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট ইলিয়াস হোসেন মনি। তিনি একই ইউনিয়নের পাশের গ্রাম নরিল্যার বাসিন্দা। তাঁর বাবা প্রয়াত তোফাজ্জল উকিল ওরফে তোফাজ্জল মাস্টার ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও মধুপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি। দলটির দ্বিতীয় উপজেলা কমিটির সময় তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।
অ্যাডভোকেট ইলিয়াস হোসেন মনি ১৯৯৫ সালে ভাইঘাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। বাবার গড়া রাজনৈতিক দলের প্রতীক নিয়ে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
একই ইউনিয়নের (সাবেক একই ওয়ার্ড ৩)পাশাপাশি দুই গ্রামের বাসিন্দা, একই বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র—এমন দুইজন এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসাহ ও গর্বের আবহ। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা এ এলাকায় এই প্রথম।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দুই প্রতিবেশীই এবার এমপি প্রার্থী। কাকে রেখে কাকে ভোট দেব—এটাই এখন বড় চিন্তা।”
কলেজ শিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, “একজন আমার বন্ধু, আরেকজন এলাকার ছোট ভাই। দুজনই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভোট তো একজনকেই দিতে হবে। এখানে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে আঞ্চলিকতার বিষয়টাই বেশি গুরুত্ব পাবে।”
তাদের মতো অনেকেই বলেছেন, দল বিবেচনার বাইরে আঞ্চলিকতায় এই দুই প্রার্থী ধনবাড়ী অঞ্চলের ভোট টানবে। তাদের দুইজনের প্রতিদ্বন্দ্বীতা একটু অন্য রকম। এ ব্যতিক্রমী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে টাঙ্গাইল-১ আসনে ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল ও উত্তাপ ছড়াচ্ছে।




















