৭ মাস পর স্ত্রীকে নিতে হেলিকপ্টারে স্বামী, মধুপুরের গ্রামে উৎসবের আমেজ
- আপডেট সময় : ১০:০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ১৪০ বার পড়া হয়েছে

বিয়ের শোভাযাত্রা বা নববধূকে বরণ করে নেওয়ার নানা উপায় থাকলেও টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক প্রবাসী যুবক যেভাবে স্ত্রীকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হলেন, তা এলাকাজুড়ে রীতিমতো চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। হেলিকপ্টারে চড়ে স্ত্রীকে নিতে এসে তিনি পরিণত হয়ে ছিলেন শত শত মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে।
শনিবার দুপুরে পাশের এলাকার সিঙ্গাপুর প্রবাসী মুরাদ হোসেন আকাশ (২৫) হেলিকপ্টার নিয়ে মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের মোটের বাজার এলাকার লাইনপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন। হেলিকপ্টারটি অবতরণ করার খবর মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ—সবাই ছুটে আসেন বিরল এ দৃশ্য একনজর দেখতে।
মুরাদ হোসেন আকাশের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশরগঞ্জ গ্রামে। তার বাবা আজহার আলী ওমান প্রবাসী। অন্যদিকে তার স্ত্রী শশী আক্তার মধুপুরের আউশনারা ইউনিয়নের মোটের বাজার এলাকার লাইনপাড়ার বাসিন্দা। তিনি সাবেক ইউপি সদস্য শাহজাদার মেয়ে এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পাস করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭ নভেম্বর শশী আক্তারের সঙ্গে মুরাদ হোসেন আকাশের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই কর্মস্থল সিঙ্গাপুরে ফিরে যান মুরাদ। দীর্ঘ সাত মাস পর দেশে ফিরে এবার তিনি স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যেতে বেছে নেন এক ব্যতিক্রমী উপায়—হেলিকপ্টার।
শশী আক্তারের বাবা শাহজাদা জানান, “জামাই হেলিকপ্টারে করে আমার মেয়েকে নিতে আসবেন, এমনটা কখনো কল্পনাও করিনি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। আমরা এলাকাবাসীকে দাওয়াত দিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচশ মানুষকে মেজবানি খাওয়াতে হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, হেলিকপ্টার দেখতে আসা উৎসুক মানুষের আনন্দ বাড়াতে মুরাদ প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনকে হেলিকপ্টারে উঠে বসার সুযোগও করে দেন। এতে উপস্থিতদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্রামাঞ্চলে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। হেলিকপ্টারের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসে। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। কেউ কেউ এটিকে জীবনের স্মরণীয় একটি ঘটনা বলেও উল্লেখ করেন।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকায় যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। নবদম্পতির নতুন জীবনের যাত্রা শুরু হলো আকাশপথে, আর সেই দৃশ্য দীর্ঘদিন মনে রাখবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।





















Nice