ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল

মধুপুরে শিয়ালের আক্রমণে ১১ ঘণ্টায় আহত ২১, আতঙ্ক

মধুপুর করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোরডটকম
  • আপডেট সময় : ০৮:২১:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিয়ালের আক্রমণে আহত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শনিবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২১ জন শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন। একের পর এক আহত রোগী হাসপাতালে আসায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্মীদের। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা সোয়া দুইটা থেকে রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত শিয়ালের কামড়ে আহত অন্তত ২১ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। আহতদের মধ্যে শিশু, তরুণ ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আউশনারা ইউনিয়নের বেলচুঙ্গি গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে রুবেল (৩৫)। রাত সাড়ে আটটার দিকে মধুপুর পৌর এলাকার দামপাড়া হয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন তিনি। প্রায় একই সময়ে পৌর শহরের চাড়ালজানী তেঁতুলতলা এলাকার মাহার ছেলে আরিফও আহত হন।

এ ছাড়া বেলা দুইটার দিকে জান্নাত নামের এক শিশু, সালমা (৪৫), মিরাজুল (১১), আবু সাঈদ(৩), ইদিলপুরের কাদের (৩৫), গোপিনাথপুরের শাহজাহান, চাড়ালজানীর আরজু, দামপাড়ার রাফিউল, টেকিপাড়ার মোতালেব, শিবরামবাড়ীর ইউসুফ (৪০), টেকিপাড়ার মালেক (৬৭), নয়াপাড়ার শাকিল (২৫), মাস্টারপাড়ার আল আমিন (২১) ও কাবেল (২৫) শিয়ালের আক্রমণে আহত হয়েছেন। অন্য আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত আহতদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত সময় পার করেন কর্মীরা। জরুরি বিভাগে কর্মরত আবু সাঈদ বলেন, ‘শিয়ালের কামড়ে আহত রোগী আসছেন একের পর এক। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি তাঁদের চিকিৎসাসেবা দিতে।’

এর আগে গত ৭ অক্টোবর গোলাবাড়ী ইউনিয়নের প্রজাপুর গ্রামের মৃত সর্বেশ আলীর ছেলে সুরুজ আলী (৫০) ও জগন্নাথপুর গ্রামের এক নারী শিয়ালের আক্রমণে আহত হন। এ ছাড়া নাসির উদ্দিনের একটি ছাগলও শিয়ালের কামড়ের শিকার হয়। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা চলছে।

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, ‘প্রতিদিন বিড়াল, শিয়াল ও কুকুরের কামড়ে আহত অনেক রোগী হাসপাতালে আসছেন। আশঙ্কাজনক হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। সরবরাহে কোনো সমস্যা না হলে সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

তিনি শিয়াল, কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক মানুষ শিয়ালের আক্রমণের শিকার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি বন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল

মধুপুরে শিয়ালের আক্রমণে ১১ ঘণ্টায় আহত ২১, আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৮:২১:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিয়ালের আক্রমণে আহত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শনিবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২১ জন শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন। একের পর এক আহত রোগী হাসপাতালে আসায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্মীদের। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা সোয়া দুইটা থেকে রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত শিয়ালের কামড়ে আহত অন্তত ২১ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। আহতদের মধ্যে শিশু, তরুণ ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আউশনারা ইউনিয়নের বেলচুঙ্গি গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে রুবেল (৩৫)। রাত সাড়ে আটটার দিকে মধুপুর পৌর এলাকার দামপাড়া হয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন তিনি। প্রায় একই সময়ে পৌর শহরের চাড়ালজানী তেঁতুলতলা এলাকার মাহার ছেলে আরিফও আহত হন।

এ ছাড়া বেলা দুইটার দিকে জান্নাত নামের এক শিশু, সালমা (৪৫), মিরাজুল (১১), আবু সাঈদ(৩), ইদিলপুরের কাদের (৩৫), গোপিনাথপুরের শাহজাহান, চাড়ালজানীর আরজু, দামপাড়ার রাফিউল, টেকিপাড়ার মোতালেব, শিবরামবাড়ীর ইউসুফ (৪০), টেকিপাড়ার মালেক (৬৭), নয়াপাড়ার শাকিল (২৫), মাস্টারপাড়ার আল আমিন (২১) ও কাবেল (২৫) শিয়ালের আক্রমণে আহত হয়েছেন। অন্য আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত আহতদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত সময় পার করেন কর্মীরা। জরুরি বিভাগে কর্মরত আবু সাঈদ বলেন, ‘শিয়ালের কামড়ে আহত রোগী আসছেন একের পর এক। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি তাঁদের চিকিৎসাসেবা দিতে।’

এর আগে গত ৭ অক্টোবর গোলাবাড়ী ইউনিয়নের প্রজাপুর গ্রামের মৃত সর্বেশ আলীর ছেলে সুরুজ আলী (৫০) ও জগন্নাথপুর গ্রামের এক নারী শিয়ালের আক্রমণে আহত হন। এ ছাড়া নাসির উদ্দিনের একটি ছাগলও শিয়ালের কামড়ের শিকার হয়। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা চলছে।

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, ‘প্রতিদিন বিড়াল, শিয়াল ও কুকুরের কামড়ে আহত অনেক রোগী হাসপাতালে আসছেন। আশঙ্কাজনক হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। সরবরাহে কোনো সমস্যা না হলে সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

তিনি শিয়াল, কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক মানুষ শিয়ালের আক্রমণের শিকার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি বন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।