প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন প্রবর্তিত পদক
‘সেবা মাতা ভ্যালরি অ্যান টেইলর পদক’ পেলেন জেসন–মেরিন্ড দম্পতি
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রবর্তিত ‘সেবা মাতা ভ্যালরি অ্যান টেইলর পদক’-এ প্রথমবারের মতো ভূষিত হয়েছেন মধুপুরের কাইলাকুড়িতে অবস্থিত এড্রিক বেকার হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক দম্পতি ডা. জেসন ও ডা. মেরিন্ড।
মানবকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ভ্যালরি অ্যান টেইলরের জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীতে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই দিন (শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চ্যানেল আইয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চলের দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে নিরলস চিকিৎসাসেবা প্রদান, বিশেষ করে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য ভূমিকা রাখায় এই আমেরিকান চিকিৎসক দম্পতিকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
ডা. জেসন ও ডা. মেরিন্ড কাইলাকুড়ি হাসপাতালের মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। স্থানীয় মানুষের কাছে তারা মানবিক চিকিৎসক হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন।
এই হাসপাতালটির সূচনা করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের চিকিৎসক এড্রিক বেকার, যিনি স্থানীয়দের কাছে ‘ডাক্তার ভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন। টানা ৩২ বছর তিনি মধুপুরের গ্রামের দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। ২০১৫ সালে নিজ প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুর আগে তিনি চেয়েছিলেন কোনো বাংলাদেশি চিকিৎসক যেন তার গড়ে তোলা এই হাসপাতালের দায়িত্ব নেন। তবে দেশের ভেতর থেকে কেউ সাড়া না দিলেও তার আহ্বানে সাড়া দেন যুক্তরাষ্ট্রের হৃদয়বান চিকিৎসক দম্পতি জেসন ও মেরিন্ড।
পরবর্তীতে এড্রিক বেকার হাসপাতালটি এখন “ডাক্তার বেকার অর্গানাইজেশন ফর ওয়েল বিং” প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। সব ধরনের আরাম-আয়েশ ও স্থায়ী জীবনের মোহ ত্যাগ করে ২০১৮ সালে পুরো পরিবার নিয়ে আমেরিকা ছেড়ে মধুপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন জেসন–মেরিন্ড দম্পতি। স্থানীয়রা এখন জেসনকে ‘নতুন ডাক্তার ভাই’ ও মেরিন্ডকে ‘ডাক্তার দিদি’ নামে ডাকেন।
তারা তাদের সন্তানদেরও সঙ্গে করে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন এবং গ্রামের স্কুলেই ভর্তি করিয়েছেন। শিশুদের সঙ্গে মিশে তারা স্থানীয় জীবনধারার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। বাংলায় কথা বলতে পারেন এই দম্পতি এবং সন্তানদেরও বাংলা ভাষা শেখাচ্ছেন। লুঙ্গি পরে গ্রামে চলাফেরা, দেশি খাবার ও ফল তাদের নিত্যদিনের অংশ।
গত বছরের ২৯ নভেম্বর বিটিভিতে প্রচারিত হানিফ সংকেতের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-তে এই দম্পতিকে নিয়ে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর থেকেই দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই চিকিৎসক দম্পতি দেশজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন।
এ সম্মাননা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, মানবসেবা ও ত্যাগের প্রতীক ভ্যালরি অ্যান টেইলরের আদর্শকে সামনে রেখেই এই পদক প্রবর্তন করা হয়েছে, যা মানবিক কর্মকাণ্ডে সমাজকে উদ্বুদ্ধ করবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সুদূর আমেরিকা থেকে এসে গ্রামের দরিদ্র মানুষের সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করা জেসন–মেরিন্ড দম্পতির এই দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল ও অনুকরণীয়।


















