বিভ্রান্তি দূর করে পুরোদমে এগিয়ে চলছে কাজ
মধুপুর জাতীয় উদ্যানে গড়গড়িয়া লেক সংস্কার
- আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ৮২ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বন্যপ্রাণীর পানির সংকট নিরসনে ঐতিহাসিক গড়গড়িয়া লেক সংস্কারের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
‘শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রকল্প’-এর অধীনে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্পটিকে ঘিরে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জমি দখলের যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
মধুপুর গড়ের প্রায় ৪৫ হাজার ৫৬৫ দশমিক ১৮ একর বনভূমিতে মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, মুখপোড়া হনুমানসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। ১৯৭০-এর দশকে বন্যপ্রাণীদের পানির চাহিদা মেটাতে গড়গড়িয়া লেকটি খনন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় লেকটি ভরাট হয়ে পড়েছিল, ফলে শুষ্ক মৌসুমে বন্যপ্রাণীর জন্য পানির তীব্র সংকট দেখা দিত।
লেক সংস্কারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- বন্যপ্রাণী ও পাখির জন্য সারাবছর পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, জলাভূমির ইকোসিস্টেম ও জলজ প্রাণ সংরক্ষণ, শুষ্ক মৌসুমে বনে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণে পানির উৎস তৈরি করা এবং নিকটবর্তী গায়রা গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কৃষি কাজে সেচ সুবিধা সৃষ্টি করা।
মধুপুর জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন সংরক্ষক রাব্বি রায়হান বলেন, গড়গড়িয়া লেকটি দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকায় বন্যপ্রাণীরা পানির সংকটে পড়ছিল। শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় লেকটির গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে সারা বছর পানি সংরক্ষণ করা যায়। এটি বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে জাতীয় উদ্যানের জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, লেক থেকে উত্তোলিত মাটি বন সংলগ্ন পরিত্যক্ত ‘বাইদ’ জমিতে রাখা হচ্ছে। এই জায়গাটি স্থানীয়দের আবাদী জমি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কোনো আদিবাসী পাড়া বা কৃষিজমিতে মাটি ফেলা হয়নি।
এদিকে সম্প্রতি একটি মহল দাবি করেছিল যে আদিবাসীদের ভোগদখলীয় জমি থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে বা তাদের জমিতে মাটি ফেলা হচ্ছে। তবে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
তদন্তে জানা গেছে, লেক সংস্কারের কমিটি বন আইনের ২০ ধারাভুক্ত সংরক্ষিত বনভূমির অন্তর্ভুক্ত। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং ১ মার্চ মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে তারা নিশ্চিত করেন যে, কোনো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতভিটা বা চাষাবাদের জমি এই প্রকল্পের আওতায় পড়েনি।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি সংস্কার কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, জওয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক এবং মধুপুর জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লাল মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে লেকটির গভীরতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে যাতে বর্ষার পানি দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে গড়গড়িয়া লেক মধুপুর গড়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও বন্যপ্রাণীর টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।











