ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শালবনবার্তা টিমের ভ্রমণকাহিনী; অবশেষে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় আমরা

এস. এম শহীদ শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর. কম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

অবশেষে দেখা মিলল সাগরকন্যা কুয়াকাটার। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নানা বাধা-বিপত্তি আর অসংখ্য পরিকল্পনার পর শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম টিমের স্বপ্নের সেই ভ্রমণ বাস্তবে রূপ নিল।

গত ফেব্রুয়ারিতেই দেশের সৌন্দর্যমণ্ডিত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ঘুরে দেখার লক্ষ্যে শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কমের পক্ষ থেকে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় সে যাত্রা আর সম্ভব হয়নি।

অবশেষে শুক্রবার( ১২ জুন) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় শালবনবার্তার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ডা. নাজমুল হোসেন রনির এসইউভি গাড়িতে চড়ে আমি(সম্পাদক), লিটন সরকার ( বার্তা সম্পাদক) আরেশদ আলম(ডেপুটি এডিটর), হাসনাত রাব্বি (এডমিন) এই পাঁচ সদস্যের দল মধুপুর থেকে যাত্রা শুরু করি কুয়াকাটার উদ্দেশে।

 

লক্ষ্য ছিল ভোর হওয়ার আগেই সাগরকন্যার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া। তাই শত শত যানবাহন পেছনে ফেলে রাতভর ছুটে চলা। রাজধানীর এক্সপ্রেস এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে শুরু করে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার—পথজুড়ে মোট ১৪টি টোল প্লাজায় থামতে হয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টার যাত্রায় টোল প্রদান আর রাতের খাবারের বিরতিতেই কেটে গেছে উল্লেখযোগ্য সময়।

 

টোল প্লাজাগুলোতে কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাও হয়েছে। কোথাও কোথাও টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ দেখে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে। একজনের কাছে টোলের রসিদ চাইতেই তার গড়িমসি যেন ফাঁকির ইঙ্গিতই দিল।

রাতের অন্ধকারে চারপাশের প্রকৃতি খুব একটা দেখা যায়নি। তবে পূর্ব আকাশে যখন আলোর আভা ফুটতে শুরু করল, তখন ধীরে ধীরে চোখের সামনে উন্মোচিত হতে লাগল দক্ষিণ বাংলার অপরূপ রূপ।

পথে নানা অভিজ্ঞতা। পটুয়াখালী প্রবেশের আগেই রাস্তার পাশে দুই ছাগলের দুষ্টুমি নজর কাড়ল। একটিকে সামান্য দাঁড়ানো গাড়ির নিচে পড়ে গেছে মনে করে গাড়ি থামিয়ে খোঁজ নিতে নামতে হয়েছিল। কোথাও রাস্তা পার হওয়া কুকুরের দল, কোথাও সড়কের নানা প্রতিবন্ধকতা—সবকিছু সামলে এগিয়ে চলা।

যাত্রার আরেকটি মজার স্মৃতি রাত ২টার দিকে মাওয়া ঘাটে। সেখান থেকে টাটকা ইলিশ কিনে ভেজে রাতের খাবার সেরে নেওয়া হয়। এরও আগে ঢাকার সীমানা পেরিয়ে প্রয়োজনীয় বিরতির জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজতে গিয়ে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল। অবশেষে একটি বন্ধ পেট্রোলপাম্পের পাশে থামার সুযোগ মিলতেই দলের অনেকের স্বস্তির নিঃশ্বাস।

রাত পেরিয়ে সকাল। তালতলী উপজেলার পথে বড় বড় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা দেখে মনটা আনন্দে ভরে উঠল। ঘুমজড়ানো চোখ ধীরে ধীরে সতেজ হয়ে উঠছিল। এদিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পথের দুপাশে সারি সারি চিংড়ির ঘের, সবুজ প্রকৃতি আর গ্রামের জনপদ দেখতে দেখতে এগিয়ে চলা।

পায়রা বন্দরকে বাম পাশে রেখে, পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাখিমারা বাজার পেরিয়ে যখন এগোচ্ছি, তখন মনে হচ্ছিল গন্তব্য আর খুব দূরে নয়।

সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে সোনাতলা ব্রিজ ও খাপড়াভাঙ্গা সেতুর টোল অতিক্রম করার পর চোখে পড়ল সেই বহুল প্রতীক্ষিত সাইনবোর্ড—“সাগরকন্যা কুয়াকাটায় আপনাকে স্বাগতম”। মুহূর্তেই ক্লান্তি যেন উধাও হয়ে গেল। মনে হলো, স্বপ্নের গন্তব্য হাতের নাগালেই।

অবশেষে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পৌঁছে গেলাম কুয়াকাটায়।

দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার যাত্রা, অসংখ্য অভিজ্ঞতা আর পথের গল্প নিয়ে সাগরকন্যার বুকে প্রথম পা রাখার সেই অনুভূতি সত্যিই ছিল অনন্য। সব কষ্ট, ক্লান্তি আর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কুয়াকাটা যেন আমাদের স্বাগত জানাল তার চিরচেনা সৌন্দর্য নিয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শালবনবার্তা টিমের ভ্রমণকাহিনী; অবশেষে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় আমরা

আপডেট সময় : ১২:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

অবশেষে দেখা মিলল সাগরকন্যা কুয়াকাটার। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নানা বাধা-বিপত্তি আর অসংখ্য পরিকল্পনার পর শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম টিমের স্বপ্নের সেই ভ্রমণ বাস্তবে রূপ নিল।

গত ফেব্রুয়ারিতেই দেশের সৌন্দর্যমণ্ডিত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ঘুরে দেখার লক্ষ্যে শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কমের পক্ষ থেকে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় সে যাত্রা আর সম্ভব হয়নি।

অবশেষে শুক্রবার( ১২ জুন) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় শালবনবার্তার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ডা. নাজমুল হোসেন রনির এসইউভি গাড়িতে চড়ে আমি(সম্পাদক), লিটন সরকার ( বার্তা সম্পাদক) আরেশদ আলম(ডেপুটি এডিটর), হাসনাত রাব্বি (এডমিন) এই পাঁচ সদস্যের দল মধুপুর থেকে যাত্রা শুরু করি কুয়াকাটার উদ্দেশে।

 

লক্ষ্য ছিল ভোর হওয়ার আগেই সাগরকন্যার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া। তাই শত শত যানবাহন পেছনে ফেলে রাতভর ছুটে চলা। রাজধানীর এক্সপ্রেস এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে শুরু করে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার—পথজুড়ে মোট ১৪টি টোল প্লাজায় থামতে হয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টার যাত্রায় টোল প্রদান আর রাতের খাবারের বিরতিতেই কেটে গেছে উল্লেখযোগ্য সময়।

 

টোল প্লাজাগুলোতে কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাও হয়েছে। কোথাও কোথাও টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ দেখে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে। একজনের কাছে টোলের রসিদ চাইতেই তার গড়িমসি যেন ফাঁকির ইঙ্গিতই দিল।

রাতের অন্ধকারে চারপাশের প্রকৃতি খুব একটা দেখা যায়নি। তবে পূর্ব আকাশে যখন আলোর আভা ফুটতে শুরু করল, তখন ধীরে ধীরে চোখের সামনে উন্মোচিত হতে লাগল দক্ষিণ বাংলার অপরূপ রূপ।

পথে নানা অভিজ্ঞতা। পটুয়াখালী প্রবেশের আগেই রাস্তার পাশে দুই ছাগলের দুষ্টুমি নজর কাড়ল। একটিকে সামান্য দাঁড়ানো গাড়ির নিচে পড়ে গেছে মনে করে গাড়ি থামিয়ে খোঁজ নিতে নামতে হয়েছিল। কোথাও রাস্তা পার হওয়া কুকুরের দল, কোথাও সড়কের নানা প্রতিবন্ধকতা—সবকিছু সামলে এগিয়ে চলা।

যাত্রার আরেকটি মজার স্মৃতি রাত ২টার দিকে মাওয়া ঘাটে। সেখান থেকে টাটকা ইলিশ কিনে ভেজে রাতের খাবার সেরে নেওয়া হয়। এরও আগে ঢাকার সীমানা পেরিয়ে প্রয়োজনীয় বিরতির জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজতে গিয়ে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল। অবশেষে একটি বন্ধ পেট্রোলপাম্পের পাশে থামার সুযোগ মিলতেই দলের অনেকের স্বস্তির নিঃশ্বাস।

রাত পেরিয়ে সকাল। তালতলী উপজেলার পথে বড় বড় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা দেখে মনটা আনন্দে ভরে উঠল। ঘুমজড়ানো চোখ ধীরে ধীরে সতেজ হয়ে উঠছিল। এদিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পথের দুপাশে সারি সারি চিংড়ির ঘের, সবুজ প্রকৃতি আর গ্রামের জনপদ দেখতে দেখতে এগিয়ে চলা।

পায়রা বন্দরকে বাম পাশে রেখে, পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাখিমারা বাজার পেরিয়ে যখন এগোচ্ছি, তখন মনে হচ্ছিল গন্তব্য আর খুব দূরে নয়।

সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে সোনাতলা ব্রিজ ও খাপড়াভাঙ্গা সেতুর টোল অতিক্রম করার পর চোখে পড়ল সেই বহুল প্রতীক্ষিত সাইনবোর্ড—“সাগরকন্যা কুয়াকাটায় আপনাকে স্বাগতম”। মুহূর্তেই ক্লান্তি যেন উধাও হয়ে গেল। মনে হলো, স্বপ্নের গন্তব্য হাতের নাগালেই।

অবশেষে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পৌঁছে গেলাম কুয়াকাটায়।

দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার যাত্রা, অসংখ্য অভিজ্ঞতা আর পথের গল্প নিয়ে সাগরকন্যার বুকে প্রথম পা রাখার সেই অনুভূতি সত্যিই ছিল অনন্য। সব কষ্ট, ক্লান্তি আর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কুয়াকাটা যেন আমাদের স্বাগত জানাল তার চিরচেনা সৌন্দর্য নিয়ে।