মধুপুর শালবনে ক্ষুধার্ত বন্যপ্রাণীর খাবার ব্যবস্থা করলেন জাকির হোসেন সরকার
- আপডেট সময় : ০৯:১৩:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

“জীবে প্রেম করে যে জন, সেজন সেবিছে ঈশ্বর”- এই মানবিক চেতনা ধারণ করে মধুপুর শালবনের তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত বন্যপ্রাণীর পাশে দাঁড়িয়েছেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের মহুয়া কটেজ এলাকায় তিনি মহাসড়কের পাশে বন্যপ্রাণী বনের বানর, মুখপোড়া হনুমানের জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা করেন। এসময় তার কিছু সফর সঙ্গী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, সম্প্রতি মধুপুরের শালবনে তীব্র গরম ও খাদ্য সংকটের কারণে বনের বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী খাবার ও পানির অভাবে মানববসতির দিকে চলে আসছে। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে তাদের জন্য কলা, ফলমূল ও পানির ব্যবস্থা করেন জাকির হোসেন সরকার।
এ সময় জাকির হোসেন সরকার বলেন, বনের প্রাণীগুলোও আল্লাহর সৃষ্টি। খাবার ও পানির অভাবে তারা কষ্ট পাচ্ছে। বন বিভাগ থেকে স্থায়ীভাবে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো।
তিনি আরও জানান, তিনি আরও বলেন, মধুপুর শালবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস বাড়াতে শালবনের বিভিন্ন স্থানে ফলজ ও বনজ গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন সংরক্ষক রাব্বি রায়হান বলেন, বন্যপ্রাণীদের খাবার ও পানির সংকট নিরসনে বন বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। শালবনের ভেতরে যেসব স্থানে পানির সংকট বেশি, সেখানে জলাধার ও লেক পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে বনের প্রাণীরা সহজেই পানি পাবে এবং তাদের আবাসস্থলে ফিরে পাবে।
তিনি আরও বলেন, বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বর্তমান অর্থবছরে ফলজ ও বনজ গাছ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে বানরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস বৃদ্ধি পায়। বন বিভাগের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে মধুপুর শালবনের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে।
এদিকে স্থানীয় বন্যপ্রাণী প্রেমিকরা মনে করেন, প্রাকৃতিক বন ধ্বংস ও খাদ্যের অভাবে অনেক সময় বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। তাই তাদের জন্য প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা ও খাদ্যের উৎস নিশ্চিত করা জরুরি।
মধুপুর শালবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।











