ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জাকির হোসেন সরকারকে নিয়ে তৃণমূলে ব্যাপক প্রত্যাশা

মো. লিটন সরকার, শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোরডটকম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬ ৩৩৬ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তিনি এগিয়ে রয়েছেন বলে দাবি করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

 

জাকির হোসেন সরকার বর্তমানে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, ছাত্রদল, যুবদল, কৃষকদল ও বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এবং একাধিক মেয়াদে অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম এ রতন হায়দার বলেন, জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দল ও জনগণের জন্য কাজ করে আসছেন। তিনি একজন সৎ, পরিশ্রমী ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা। সুখে-দুঃখে সবসময় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। তাই তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মীর প্রত্যাশা, দল তাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেবে।

 

উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাহাদৎ ফকির ও আদিবাসী যুবদল নেতা মিলন রেমা বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক জাকির হোসেন সরকার। তিনি মনোনয়ন পেলে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।

 

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল হক বলেন, তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হলে উন্নয়ন ও জনসেবার কাজ আরও গতিশীল হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের, আমরা সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাব।

 

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মমিনুল ইসলাম বলেন, জাকির হোসেন সরকার বিগত দিনের প্রতিটি আন্দোলনে, প্রতিটি প্রতিকূলতায় তিনি যেভাবে আমাদের ছায়া দিয়ে আগলে রেখেছেন, মধুপুরের মাটি ও মানুষ তা কখনো ভুলবে না। আমি মধুপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হিসেবে তাকে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে চাই।

 

উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুল হাকিম বলেন, শ্রমজীবী মানুষের সুখ-দুঃখে জাকির হোসেন সরকার সবসময় পাশে থেকেছেন। একজন জনবান্ধব নেতা হিসেবে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হলে শ্রমজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

 

উপজেলা মহিলা দলের নেতৃবৃন্দরা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তিনি সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। তৃণমূলের অনেক নারী নেতাকর্মী তাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।

 

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবির হাসান অন্তর বলেন, জাকির হোসেন সরকার দীর্ঘদিন ধরে দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। তিনি একজন পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নেতা। দল তাকে মনোনয়ন দিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে আমরা আশাবাদী।

 

উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর আহসান বলেন, তিনি আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক। দল ও সাধারণ মানুষের জন্য সবসময় কাজ করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান হলে মধুপুর একজন অভিজ্ঞ, দক্ষ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব পাবে বলে আমরা আশাবাদী।

 

এদিকে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আনোয়ার হোসেন-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে অনেক নেতাকর্মীর মতে, জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক অবস্থান ও জনসম্পৃক্ততার দিক থেকে জাকির হোসেন সরকার তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। যদিও প্রার্থী মনোনয়ন সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়।

এ বিষয়ে জাকির হোসেন সরকার বলেন, দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সবসময় নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তা পালনের চেষ্টা করেছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণ যদি তাদের সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে মধুপুরের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করব।

মধুপুরের উন্নয়নে টাঙ্গাইল-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় মধুপুরকে আরও আধুনিক, স্মার্ট ও উন্নত উপজেলায় রূপ দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই। দল ও সরকারের উন্নয়নধারা অব্যাহত রাখতে জনগণের আস্থা অর্জনই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের মতামত, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মধুপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জাকির হোসেন সরকারকে নিয়ে তৃণমূলে ব্যাপক প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ০৮:১৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তিনি এগিয়ে রয়েছেন বলে দাবি করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

 

জাকির হোসেন সরকার বর্তমানে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, ছাত্রদল, যুবদল, কৃষকদল ও বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এবং একাধিক মেয়াদে অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম এ রতন হায়দার বলেন, জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দল ও জনগণের জন্য কাজ করে আসছেন। তিনি একজন সৎ, পরিশ্রমী ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা। সুখে-দুঃখে সবসময় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। তাই তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মীর প্রত্যাশা, দল তাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেবে।

 

উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাহাদৎ ফকির ও আদিবাসী যুবদল নেতা মিলন রেমা বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক জাকির হোসেন সরকার। তিনি মনোনয়ন পেলে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।

 

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল হক বলেন, তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হলে উন্নয়ন ও জনসেবার কাজ আরও গতিশীল হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের, আমরা সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাব।

 

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মমিনুল ইসলাম বলেন, জাকির হোসেন সরকার বিগত দিনের প্রতিটি আন্দোলনে, প্রতিটি প্রতিকূলতায় তিনি যেভাবে আমাদের ছায়া দিয়ে আগলে রেখেছেন, মধুপুরের মাটি ও মানুষ তা কখনো ভুলবে না। আমি মধুপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হিসেবে তাকে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে চাই।

 

উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুল হাকিম বলেন, শ্রমজীবী মানুষের সুখ-দুঃখে জাকির হোসেন সরকার সবসময় পাশে থেকেছেন। একজন জনবান্ধব নেতা হিসেবে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হলে শ্রমজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

 

উপজেলা মহিলা দলের নেতৃবৃন্দরা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তিনি সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। তৃণমূলের অনেক নারী নেতাকর্মী তাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।

 

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবির হাসান অন্তর বলেন, জাকির হোসেন সরকার দীর্ঘদিন ধরে দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। তিনি একজন পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নেতা। দল তাকে মনোনয়ন দিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে আমরা আশাবাদী।

 

উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর আহসান বলেন, তিনি আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক। দল ও সাধারণ মানুষের জন্য সবসময় কাজ করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান হলে মধুপুর একজন অভিজ্ঞ, দক্ষ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব পাবে বলে আমরা আশাবাদী।

 

এদিকে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আনোয়ার হোসেন-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে অনেক নেতাকর্মীর মতে, জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক অবস্থান ও জনসম্পৃক্ততার দিক থেকে জাকির হোসেন সরকার তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। যদিও প্রার্থী মনোনয়ন সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়।

এ বিষয়ে জাকির হোসেন সরকার বলেন, দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সবসময় নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তা পালনের চেষ্টা করেছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণ যদি তাদের সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে মধুপুরের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করব।

মধুপুরের উন্নয়নে টাঙ্গাইল-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় মধুপুরকে আরও আধুনিক, স্মার্ট ও উন্নত উপজেলায় রূপ দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই। দল ও সরকারের উন্নয়নধারা অব্যাহত রাখতে জনগণের আস্থা অর্জনই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের মতামত, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।