ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকৃতির টানে মধুপুরে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম

লোকজ উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি, আলোচনায় ইতিহাস-সংস্কৃতি ও নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও লোকজ সংস্কৃতির টানে টাঙ্গাইলের মধুপুর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখতে দুই দিনের সফরে এসেছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের একটি দল। সফরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর পাশাপাশি মধুপুরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, বন, মুক্তিযুদ্ধ ও নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনধারা নিয়ে আলোচনা করছেন ফোরামের সদস্যরা। একই সঙ্গে আগামী জানুয়ারিতে বৃহত্তর পরিসরে একটি লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা।
শুক্রবার মধুপুরের কাকরাইদে গোজাখালের তীরে ব্যুরো বাংলাদেশ পরিচালিত একটি রিসোর্টে অবস্থান নেন ফোরামের সদস্যরা। সেখানে বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রিসোর্টের সম্মেলনকক্ষে চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, বিনোদন ও আসন্ন উৎসব নিয়ে আলোচনা।
ফোরামের সদস্যরা জানান, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসবের ধারাবাহিকতায় আগামী জানুয়ারিতে আরও বড় পরিসরে লোকজ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ ঐতিহ্য, গান, কবিতা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় জীবনধারাকে এ উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করতে চান তাঁরা।
আলোচনায় উঠে আসে ময়মনসিংহ অঞ্চলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা, কবি জসীমউদ্দীনের ‘রূপাই’ ও তাঁর কবর, ভাষাশহীদ জব্বার এবং পাঁচবাগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। এ ছাড়া মধুপুরের বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ, মহান মুক্তিযুদ্ধে এ অঞ্চলের অবদান এবং এখানকার নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় মধুপুরে একটি নৃ-তাত্ত্বিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।
বক্তারা মনে করেন, সংস্কৃতি কেবল গান, কবিতা কিংবা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, ভাবের আদান-প্রদান, ভাষা, শিক্ষা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়েই সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক চর্চা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে।
আলোচনা পর্বে আরণ্যক নাট্য সংস্থার শিল্পী, গীতিকার ও অভিনেতা আমিনুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসাইন এবং মধুপুরের আচিক মিচিক সোসাইটির দীপিকা সিমসাং গান পরিবেশন করেন। কবিতা আবৃত্তি করেন ত্রৈমাসিক সাহিত্য ম্যাগাজিনের সম্পাদক কবি লিলি হক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা মসিহউদ্দিন শাকের। তাঁদের পরিবেশনায় আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফোরামের উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন, চলচ্চিত্র সূর্য দীঘল বাড়ি-এর নির্মাতা ও ফোরামের সাংস্কৃতিক বিষয়ক আহ্বায়ক মসিহউদ্দিন শাকের, তাঁর স্ত্রী লেখক জেবুন নেসা, মধুপুরের জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউজিন নকরেক এবং সাংবাদিক এস.এম শহীদ।
ফোরামের সমাজকল্যাণবিষয়ক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান ময়নার সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন ফোরামের মহাসচিব প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম শেলি।
দুই দিনের এ সফরকে নিছক ভ্রমণ নয়, বরং মধুপুরের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুন করে জানার এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের লোকজ ঐতিহ্যকে জাতীয় পরিসরে তুলে ধরার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন ফোরামের সদস্যরা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসব বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক জাগরণে ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকৃতির টানে মধুপুরে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম

লোকজ উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি, আলোচনায় ইতিহাস-সংস্কৃতি ও নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবন

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও লোকজ সংস্কৃতির টানে টাঙ্গাইলের মধুপুর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখতে দুই দিনের সফরে এসেছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের একটি দল। সফরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর পাশাপাশি মধুপুরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, বন, মুক্তিযুদ্ধ ও নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনধারা নিয়ে আলোচনা করছেন ফোরামের সদস্যরা। একই সঙ্গে আগামী জানুয়ারিতে বৃহত্তর পরিসরে একটি লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা।
শুক্রবার মধুপুরের কাকরাইদে গোজাখালের তীরে ব্যুরো বাংলাদেশ পরিচালিত একটি রিসোর্টে অবস্থান নেন ফোরামের সদস্যরা। সেখানে বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রিসোর্টের সম্মেলনকক্ষে চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, বিনোদন ও আসন্ন উৎসব নিয়ে আলোচনা।
ফোরামের সদস্যরা জানান, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসবের ধারাবাহিকতায় আগামী জানুয়ারিতে আরও বড় পরিসরে লোকজ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ ঐতিহ্য, গান, কবিতা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় জীবনধারাকে এ উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করতে চান তাঁরা।
আলোচনায় উঠে আসে ময়মনসিংহ অঞ্চলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা, কবি জসীমউদ্দীনের ‘রূপাই’ ও তাঁর কবর, ভাষাশহীদ জব্বার এবং পাঁচবাগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। এ ছাড়া মধুপুরের বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ, মহান মুক্তিযুদ্ধে এ অঞ্চলের অবদান এবং এখানকার নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় মধুপুরে একটি নৃ-তাত্ত্বিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।
বক্তারা মনে করেন, সংস্কৃতি কেবল গান, কবিতা কিংবা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, ভাবের আদান-প্রদান, ভাষা, শিক্ষা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়েই সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক চর্চা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে।
আলোচনা পর্বে আরণ্যক নাট্য সংস্থার শিল্পী, গীতিকার ও অভিনেতা আমিনুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসাইন এবং মধুপুরের আচিক মিচিক সোসাইটির দীপিকা সিমসাং গান পরিবেশন করেন। কবিতা আবৃত্তি করেন ত্রৈমাসিক সাহিত্য ম্যাগাজিনের সম্পাদক কবি লিলি হক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা মসিহউদ্দিন শাকের। তাঁদের পরিবেশনায় আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফোরামের উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন, চলচ্চিত্র সূর্য দীঘল বাড়ি-এর নির্মাতা ও ফোরামের সাংস্কৃতিক বিষয়ক আহ্বায়ক মসিহউদ্দিন শাকের, তাঁর স্ত্রী লেখক জেবুন নেসা, মধুপুরের জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউজিন নকরেক এবং সাংবাদিক এস.এম শহীদ।
ফোরামের সমাজকল্যাণবিষয়ক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান ময়নার সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন ফোরামের মহাসচিব প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম শেলি।
দুই দিনের এ সফরকে নিছক ভ্রমণ নয়, বরং মধুপুরের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুন করে জানার এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের লোকজ ঐতিহ্যকে জাতীয় পরিসরে তুলে ধরার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন ফোরামের সদস্যরা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসব বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক জাগরণে ভূমিকা রাখবে।