জানুয়ারির ১৮ দিনেই ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রেমিট্যান্স
- আপডেট সময় : ০৪:২১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনে বাংলাদেশে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারির মাঝামাঝিতেই রেমিট্যান্স ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় চলতি মাসে প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চে, ঈদুল ফিতরের আগে, যখন প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ৩২৯ কোটি ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা প্রায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট মজুতের সমপরিমাণ। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরে বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরে জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা আরও জোরালো হয়েছে। অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি কার্যক্রম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাশাপাশি কয়েক মাস ধরে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলেই অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।






















