ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রীর অগ্রিম ইঙ্গিত

মধুপুরে পৌর ও উপজেলা নির্বাচন ঘিরে কর্মী সমর্থকরা সরব, ফেইসবুকে উত্তাপ

বিশেষ প্রতিবেদন শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১১ বার পড়া হয়েছে

নতুন মন্ত্রিসভার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে আলাপকালে এক পর্যায়ে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই টাঙ্গাইলের মধুপুরে উপজেলা ও পৌর নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ভার্চুয়ালি আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে একের পর এক প্রার্থীর নাম ছবি দিয়ে সমর্থকরা ঝড়টি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মন্ত্রীর মন্তব্যের পরপরই সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত নানা পোস্ট ছড়িয়ে আগামীর নির্বাচন ঝড় শুরু করা করা হলো । এ ঝড়ে সমর্থকরা নিজ নিজ নেতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র হিসেবে দেখতে চেয়ে প্রচারণামূলক বার্তা দিচ্ছেন। দিনভর এসব পোস্ট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চেয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার–কে নিয়ে একাধিক পোস্ট করেছেন তার সমর্থকরা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“দলের হয়ে একবার উপজেলায় নির্বাচন করেছি। সামনে সুযোগ পেলে করার ইচ্ছা আছে। আমি ছাড়া দলের আর কেউ তো প্রার্থী নেই।”
তার মন্তব্য ঘিরেও স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা চলছে। তার সমান্তরালে অন্য প্রার্থীর নামও আসছে।
অন্যদিকে মেয়র পদে পরিবারিক উত্তরাধিকার বনাম সংগঠনভিত্তিক নেতৃত্বের আলোচনাও বেশ চলছে।
মেয়র পদে আলোচনায় রয়েছেন তিনবারের সাবেক মেয়র ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী জনপ্রিয় নেতা সরকার সহিদের স্ত্রী আনোয়ারা খন্দকার ওরফে লিলি সরকার। মরহুম সরকার সহিদের স্ত্রী এই লিলি সরকার পৌর বিএনপির সহসভাপতি। তার ছেলে আদিত্য সরকার ফেইসবুকে মায়ের ছবি পোস্ট করে মেয়র হিসেবে প্রার্থীতার জানান দিয়েছেন। সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
পৌর বিএনপির সহসভাপতি লিলি সরকার সাবেক মেয়র স্বামীর পরিবার ও সরকার পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এগোচ্ছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স জানান,
“এর আগেও দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলাম, এবারও চাইবো। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পদ্ধতি ও দলের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। সেক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে।”
বিগত পৌর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্র নেতা আব্দুল লতিফ পান্না। তিনি বিগত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ওই নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টে রিট করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন,
“পাতানো নির্বাচনে আমাকে হারানো হয়েছে। রায়ের জন্য এখনো অপেক্ষায় । সামনে আবারও নির্বাচন করবো।”
মেয়র পদে আলোচনায় রয়েছেন আরেক প্রভাবশালী নেতা খন্দকার মোতালিব। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“দুর্দিনে অনেককে পাওয়া যায়নি, আমি ছিলাম। মাঠে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আছি এবং থাকবো। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন করবো।”
তার সমর্থকরাও সামাজিক মাধ্যমে তাকে “ভবিষ্যৎ মেয়র” হিসেবে উল্লেখ করে পোস্ট দিচ্ছেন নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ বলছেন, একটি জাতীয় নির্বাচন শেষ হতেই আবার নতুন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে—সরকারকে অন্তত ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় সরকারের সেবা পেতে ভোগান্তি বাড়ছে। তাই দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে মধুপুরে রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও এখনো নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা হয়নি, তবু সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন।
ফেসবুকের ভার্চুয়াল প্রচারণা যে শিগগিরই মাঠের রাজনীতিতে রূপ নেবে—এমন আভাসই মিলছে মধুপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রীর অগ্রিম ইঙ্গিত

মধুপুরে পৌর ও উপজেলা নির্বাচন ঘিরে কর্মী সমর্থকরা সরব, ফেইসবুকে উত্তাপ

আপডেট সময় : ১০:১৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নতুন মন্ত্রিসভার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে আলাপকালে এক পর্যায়ে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই টাঙ্গাইলের মধুপুরে উপজেলা ও পৌর নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ভার্চুয়ালি আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে একের পর এক প্রার্থীর নাম ছবি দিয়ে সমর্থকরা ঝড়টি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মন্ত্রীর মন্তব্যের পরপরই সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত নানা পোস্ট ছড়িয়ে আগামীর নির্বাচন ঝড় শুরু করা করা হলো । এ ঝড়ে সমর্থকরা নিজ নিজ নেতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র হিসেবে দেখতে চেয়ে প্রচারণামূলক বার্তা দিচ্ছেন। দিনভর এসব পোস্ট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চেয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার–কে নিয়ে একাধিক পোস্ট করেছেন তার সমর্থকরা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“দলের হয়ে একবার উপজেলায় নির্বাচন করেছি। সামনে সুযোগ পেলে করার ইচ্ছা আছে। আমি ছাড়া দলের আর কেউ তো প্রার্থী নেই।”
তার মন্তব্য ঘিরেও স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা চলছে। তার সমান্তরালে অন্য প্রার্থীর নামও আসছে।
অন্যদিকে মেয়র পদে পরিবারিক উত্তরাধিকার বনাম সংগঠনভিত্তিক নেতৃত্বের আলোচনাও বেশ চলছে।
মেয়র পদে আলোচনায় রয়েছেন তিনবারের সাবেক মেয়র ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী জনপ্রিয় নেতা সরকার সহিদের স্ত্রী আনোয়ারা খন্দকার ওরফে লিলি সরকার। মরহুম সরকার সহিদের স্ত্রী এই লিলি সরকার পৌর বিএনপির সহসভাপতি। তার ছেলে আদিত্য সরকার ফেইসবুকে মায়ের ছবি পোস্ট করে মেয়র হিসেবে প্রার্থীতার জানান দিয়েছেন। সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
পৌর বিএনপির সহসভাপতি লিলি সরকার সাবেক মেয়র স্বামীর পরিবার ও সরকার পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এগোচ্ছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স জানান,
“এর আগেও দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলাম, এবারও চাইবো। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পদ্ধতি ও দলের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। সেক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে।”
বিগত পৌর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্র নেতা আব্দুল লতিফ পান্না। তিনি বিগত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ওই নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টে রিট করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন,
“পাতানো নির্বাচনে আমাকে হারানো হয়েছে। রায়ের জন্য এখনো অপেক্ষায় । সামনে আবারও নির্বাচন করবো।”
মেয়র পদে আলোচনায় রয়েছেন আরেক প্রভাবশালী নেতা খন্দকার মোতালিব। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“দুর্দিনে অনেককে পাওয়া যায়নি, আমি ছিলাম। মাঠে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আছি এবং থাকবো। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন করবো।”
তার সমর্থকরাও সামাজিক মাধ্যমে তাকে “ভবিষ্যৎ মেয়র” হিসেবে উল্লেখ করে পোস্ট দিচ্ছেন নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ বলছেন, একটি জাতীয় নির্বাচন শেষ হতেই আবার নতুন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে—সরকারকে অন্তত ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় সরকারের সেবা পেতে ভোগান্তি বাড়ছে। তাই দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে মধুপুরে রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও এখনো নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা হয়নি, তবু সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন।
ফেসবুকের ভার্চুয়াল প্রচারণা যে শিগগিরই মাঠের রাজনীতিতে রূপ নেবে—এমন আভাসই মিলছে মধুপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে।