ইউএনও’র হস্তক্ষেপে শান্তিপূর্ণ সমাধান
মধুপুরে রাবার বাগানের জমি উদ্ধারে গারো পরিবার উচ্ছেদ নিয়ে উত্তেজনা,
- আপডেট সময় : ০২:৫৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ১০৯ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুরে রাবার বাগানের দখল হওয়া জমি উদ্ধারের নামে একটি গারো পরিবারকে উচ্ছেদ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলার ধরাটি গ্রামের কালাপাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বশিউক) বা রাবার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীন চাঁদপুর রাবার এস্টেটের স্থানীয় বাগান ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে একটি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে গারো পরিবারের বসতঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় বাড়ির চারপাশে লাগানো বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলা এবং বন্দুকধারী আনসারদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা শুরু হয়।
জানা যায়, ১৯৮৬ সালে মধুপুরের গজারী বনের প্রায় সাত হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে সেখানে রাবার বাগান করা হয়। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনেও রাবার বাগানটি খুব বেশি লাভজনক হয়ে উঠেনি। বর্তমানে ওই বাগানের অনেক জায়গা দখর করে বাণিজ্যিক কলা ও আনারসের চাষ হচ্ছে। সে দিকে নজর দেয়া হয়না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধুপুর গড় অঞ্চলের পূর্ব ধারাটি এলাকার কালাপাহাড়ে আদিবাসী গারো পরিবার রমেন কুবি ও শিবলি মাংসাং দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। তাদের দাবি, বন বিভাগের জমির দখল তারা ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়ে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে গত ৭/৮ বছর ধরে তারা এখানে বসবাস করছেন। যদিও এ জমি কেনার কোনো দলিল হয়নি।
ভুক্তভোগী রমেন কুবি ও স্ত্রী শিবলি মাংসাং অভিযোগ করেন, তাদের বাড়ি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বন বিভাগ থেকে কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি। স্থানীয় কয়েকজন নেতার পরামর্শেই তারা সেখানে বসতঘর নির্মাণ করেছিলেন। ঘর হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল।
অন্যদিকে চাঁদপুর রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ জানান, জলবায়ু ও বন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন বিভাগের দখল হওয়া জমি উদ্ধারের অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ওই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়ের হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মধুপুর রাবার বাগানের মহাব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন, সংশ্লিষ্ট বাগানের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ, মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর ইকবাল ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজীব আল রানা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। তাদের পুনর্বাসন বা ঘর পুনর্নির্মাণের জন্য দুই বান্ডিল টিন, ৬ হাজার টাকা এবং খুঁটির সব খরচ বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়।
শান্তিপূর্ণ এ সমাধানের সময় জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সংবাদকর্মী লিটন সরকার উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হওয়ায় বনাঞ্চলে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে।













