ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুপুরের কৃষক ছানোয়ারের বাড়িতে হঠাৎ কৃষিমন্ত্রী

আলাপচারিতায় কৃষির সম্ভাবনা, প্রত্যাশা ও সরকারি উদ্যোগের গুরুত্ব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন প্লাটফর্মে একটি ভিডিও দেখে মোবাইল ফোনে কথা ও পরিচয় কৃষিমন্ত্রী এবং কৃষকের । সেখান থেকেই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক ছানোয়ারের কৃষি উদ্যোগের প্রতি আগ্রহী হন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ। একদিন তাঁর বাড়িতে বেড়াতে আসার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন মন্ত্রী। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে বুধবার বিকেলে অনেকটা নিরবেই টাঙ্গাইলের মধুপুরের মহিষমারা গ্রামে ছানোয়ারের বাড়িতে হাজির হন মন্ত্রী। কৃষিমন্ত্রীর আগমনের রহস্য এ ভাবেই জানালেন কৃষক ছানোয়ার।

 

তিনি আরও জানান, সামাজিক ও বিভিন্ন  যোগাযোগমাধ্যমে দেখা তার কৃষি উদ্যোগ বাস্তবে কতটা বিস্তৃত, তা ঘুরে দেখেন নিজের চোখে। পরিদর্শন করেন তাঁর গড়ে তোলা কলেজ ও কৃষি খামার। টং ঘরে বসে কৃষির নানা দিক নিয়ে কথা বলেন। পরে কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে গ্রামীণ বাড়ির অর্গানিক বহুপদী খাবারে লাঞ্চ সারেন।  একপর্যায়ে মন্ত্রী জানতে চান, সরকারের কাছে ছানোয়ারের প্রত্যাশা কী?

ছানোয়ারের প্রত্যাশা, মধুপুরের সম্ভাবনাময় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হোক। আনারস, কলা, কচু, হলুদ, মাল্টা ও ড্রাগনের মতো ফল ও ফসলের চাষে অর্গানিক পদ্ধতির প্রসার ঘটুক। কৃষক, কৃষি ও ভোক্তা—সব পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।

ছানোয়ারের এই প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখে কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে আনারস উৎপাদন এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর ফল নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষ, সংরক্ষণ ও পাকানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হরমোন ও রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধে কৃষকদের সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বুধবার বিকেলে মধুপুরের মহিষমারা এলাকায় ছানোয়ারের বাড়ি এবং একই ইউনিয়নে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের খামারবাড়ি পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, মধুপুর গড় কলা, আনারসসহ বিভিন্ন ফল চাষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানকার উৎপাদিত ফল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। মধুপুরের আনারস এখন স্পেন, পর্তুগাল ও পাকিস্তানেও রপ্তানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, রপ্তানির এই ধারা অব্যাহত রাখতে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ফল চাষ এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। ফল পাকাতে ক্ষতিকর হরমোন ব্যবহারের অভ্যাস পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে হবে। নিরাপদ ফল উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তারাও পান নির্ভেজাল ও পুষ্টিকর ফল।

মধুপুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আদা ও হলুদ চাষের প্রসারেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার কথা জানান কৃষিমন্ত্রী।

এর আগে ছানোয়ারের আমন্ত্রণে তাঁর কৃষি উদ্যোগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় কৃষকের অভিজ্ঞতা, মধুপুরের কৃষির বৈচিত্র্য এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

কৃষিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, কৃষি বিভাগের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের সাথে সাক্ষাৎকাৎকালে  মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ট্যাগস :

মধুপুরের কৃষক ছানোয়ারের বাড়িতে হঠাৎ কৃষিমন্ত্রী

আলাপচারিতায় কৃষির সম্ভাবনা, প্রত্যাশা ও সরকারি উদ্যোগের গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন প্লাটফর্মে একটি ভিডিও দেখে মোবাইল ফোনে কথা ও পরিচয় কৃষিমন্ত্রী এবং কৃষকের । সেখান থেকেই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক ছানোয়ারের কৃষি উদ্যোগের প্রতি আগ্রহী হন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ। একদিন তাঁর বাড়িতে বেড়াতে আসার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন মন্ত্রী। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে বুধবার বিকেলে অনেকটা নিরবেই টাঙ্গাইলের মধুপুরের মহিষমারা গ্রামে ছানোয়ারের বাড়িতে হাজির হন মন্ত্রী। কৃষিমন্ত্রীর আগমনের রহস্য এ ভাবেই জানালেন কৃষক ছানোয়ার।

 

তিনি আরও জানান, সামাজিক ও বিভিন্ন  যোগাযোগমাধ্যমে দেখা তার কৃষি উদ্যোগ বাস্তবে কতটা বিস্তৃত, তা ঘুরে দেখেন নিজের চোখে। পরিদর্শন করেন তাঁর গড়ে তোলা কলেজ ও কৃষি খামার। টং ঘরে বসে কৃষির নানা দিক নিয়ে কথা বলেন। পরে কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে গ্রামীণ বাড়ির অর্গানিক বহুপদী খাবারে লাঞ্চ সারেন।  একপর্যায়ে মন্ত্রী জানতে চান, সরকারের কাছে ছানোয়ারের প্রত্যাশা কী?

ছানোয়ারের প্রত্যাশা, মধুপুরের সম্ভাবনাময় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হোক। আনারস, কলা, কচু, হলুদ, মাল্টা ও ড্রাগনের মতো ফল ও ফসলের চাষে অর্গানিক পদ্ধতির প্রসার ঘটুক। কৃষক, কৃষি ও ভোক্তা—সব পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।

ছানোয়ারের এই প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখে কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে আনারস উৎপাদন এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর ফল নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষ, সংরক্ষণ ও পাকানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হরমোন ও রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধে কৃষকদের সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বুধবার বিকেলে মধুপুরের মহিষমারা এলাকায় ছানোয়ারের বাড়ি এবং একই ইউনিয়নে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের খামারবাড়ি পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, মধুপুর গড় কলা, আনারসসহ বিভিন্ন ফল চাষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানকার উৎপাদিত ফল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। মধুপুরের আনারস এখন স্পেন, পর্তুগাল ও পাকিস্তানেও রপ্তানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, রপ্তানির এই ধারা অব্যাহত রাখতে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ফল চাষ এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। ফল পাকাতে ক্ষতিকর হরমোন ব্যবহারের অভ্যাস পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে হবে। নিরাপদ ফল উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তারাও পান নির্ভেজাল ও পুষ্টিকর ফল।

মধুপুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আদা ও হলুদ চাষের প্রসারেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার কথা জানান কৃষিমন্ত্রী।

এর আগে ছানোয়ারের আমন্ত্রণে তাঁর কৃষি উদ্যোগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় কৃষকের অভিজ্ঞতা, মধুপুরের কৃষির বৈচিত্র্য এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

কৃষিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, কৃষি বিভাগের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের সাথে সাক্ষাৎকাৎকালে  মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।