মধুপুরে ক্লুলেস জালেমন হত্যা রহস্য উদঘাটন
চুরি করতে গিয়ে এলাকার দুই জামাই হত্যা করেন বৃদ্ধাকে
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়িতে বৃদ্ধা জালেমন বেগম হত্যা কান্ডের জট খোলেছে। মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমকে (৩২) তিন মাসের মাথায় গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার স্ত্রী সুবর্ণা হয়েছেন স্বাক্ষী।
গ্রেপ্তার শাহ আলম শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার বানিয়াপাড়া এলাকার আবদুল করিমের ছেলে। শোলাকুড়িতে ঘর জামাই থাকেন। আরেক আসামী ময়মনসিংহের সজীবও শোলাকুড়িতে বিয়ে করেছেন।
তাদের হাতে নিহত জালেমন বেগম (৭৫) মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আবুল কালাম আজাদ মিঠুর মা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মধুপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম। প্রেস ব্রিফিংকালে তার সাথে অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক, ওসি(তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অরণখোলা ফাঁড়ির আইসি শেখ মোহাম্মদ রুবেল উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম জানান, শাহ আলমের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, তার সহযোগী ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সজীবকে নিয়ে চুরির উদ্দেশ্যে জালেমন বেগমের একা থাকা বাড়িতে প্রবেশ করেন। দুজনই শোলাকুড়ি এলাকার জামাই। শাহ আলম ওই এলাকায় ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। সজীবও মাঝেমধ্যে সেখানে অপকর্ম করতে আসতেন।
জবানবন্দি অনুযায়ী, শাহ আলম ও সজীব জালেমন বেগমকে দীঘিতে মাছ ধরতে এসেছেন বলে জানান। মাছ ধরে তারা জালেমনক দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এভাবে কথা বলে তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে সঙ্গে থাকা কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। এরপর তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুলসহ এক ভরির বেশি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং মাটির ব্যাংক ভেঙে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
শাহ আলমের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, এর আগেও তারা আবুল কালাম আজাদ মিঠুর বাড়ি থেকে ফ্রিজে রাখা মাংস, রাইস কুকার, কাঁথাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করেছিলেন।
সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র না থাকায় তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় উৎস কাজে লাগিয়ে পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চালায়। টানা তিন মাসের প্রচেষ্টায় আসামির সন্ধান পাওয়া যায়। শাহ আলমের মোবাইল ফোনের বিকাশ হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও জানান, মামলার আরেক অভিযুক্ত সজীব বর্তমানে ময়মনসিংহে একটি মোটরসাইকেল চুরি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে যুক্ত করা হবে। এ ছাড়া শাহ আলমের স্ত্রী ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও স্বামীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বীকার করে সাক্ষী হয়েছেন বলে জানান তিনি।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক, আইও আইসি শেখ রুবেল বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের টিম বুধবার নরসিংদীর বেলাবো থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইলের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে মধুপুরের শোলাকুড়ি ইউনিয়নের দীঘিরপাড় এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হন জালেমন বেগম। ওই সময় তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও ঘরে রাখা টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র বসবাস করায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটিতে একাই থাকতেন। এ ঘটনায় তার ছেলে আবুল কালাম আজাদ মিঠু বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।


















