❝যানজটে ক্লান্ত মধুপুর ❞
- আপডেট সময় : ১০:৪১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

বংশাই নদীর পাড়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার দাপট। অন্তহীন যানজটে ভোগান্তিতে পৌর বাসী। ধারণক্ষমতার অধিক থ্রি হুইলার ও ইজিবাইকের চাপ নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়েছে বহুগুণে। অটোরিক্সা ও মিশুক পরিবহনের যত্রতত্র ব্রেক করে যাত্রী উঠানো কিংবা নিয়মবহির্ভূত রাস্তা ক্রস করে অবাধ চলাচল সড়কে প্রতিনিয়ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। পিছিয়ে নেই দূরপাল্লার পরিবহনগুলো – রাস্তার উপরে ও ফুটপাত দখল করে বাসস্ট্যান্ড স্থাপনে পৌর বাসীর নাভিশ্বাস যেন দেখার কেউ নেই।
ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকান বসানো কিংবা চলাচলের রাস্তা সংকুচিত করে সেখানে অটোস্ট্যান্ড কিংবা পরিবহন পার্কিং করার ফলে যানজটের তীব্রতা ভয়ংকর রূপ ধারন করেছে। সাবলীলভাবে ফুটপাত দিয়ে হাটা এখন দুষ্কর। কোথায় ভাসমান দোকান আবার কোথাও অটো কিংবা মিশু’র সারি। অনেক দোকানি পণ্যের প্রদর্শন করছে ফুটপাত দখল করে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অবলীলায় আইন ভেঙে চলছে জন দূর্ভোগের মহোৎসব। মধুপুর পৌর শহরের অন্যতম ব্যস্ত শহীদ স্মৃতি কলেজ রোড। এ রোডে পথচারীদের যানজট নিত্য সঙ্গী। উপরন্তু যোগ হয়েছে হাইওয়ে রোডে উঠার চ্যালেঞ্জ। কোন সিগন্যাল বা ট্রাফিক পুলিশের তদারকি না থাকায় এখানে ঝুঁকি নিয়ে হাইওয়ে’তে উঠতে ও নামতে হয় পরিবহনগুলোর। এছাড়াও মধুপুর -ময়মনসিংহ রোডের জলছত্র বাজার আনারস ও কলার হাটে প্রত্যেহ তীব্র যানজট যেন মধুপুরবাসীর রোজকার রুটিন। সেই সাথে যানজটে ম্লান হচ্ছে মধুপুর আনারস চত্ত্বরের ত্রি মোহনা। এখানে সারি সারি সিএনজি ও অটোর সাথে দূরপাল্লার বাস এলোপাতাড়ি দাঁড়িয়ে থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। দেখা যায় অনেক সময় বাস ও ট্রাক সাবলীলভাবে আনারস চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করতে পারে না। রাস্তার উপর গাড়ি থামা ও দাড়িয়ে থাকায় এখানে গাড়ির গতি খানিকটা ধীরগতির হয়ে যায়। ফলে এখানে জোড়া ব্রিজ স্থাপনেও যানজট থেকে সুফল মিলছে না।
বিরক্তিকর যানজট থেকে উত্তোরনের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের পাশাপাশি পথচারীদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। উত্তর টাঙ্গাইলের ব্যস্ততম শহর মধুপুর থেকে যানজট নিরসনে এই ৮ টি পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে।
১. ফুটপাত ও চলাচলের রাস্তা দখল মুক্ত করা। সেখানে অটো কিংবা দূরপাল্লার বাস বা সিএনজি যেন সময়ক্ষেপণ করতে না পারে এ বিষয়ে প্রশাসনের বিশেষ নজড় দেওয়া।
২. সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বর্তমান বাসস্টপ অন্যত্র সরিয়ে পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা যেতে পারে।
৩. বর্তমান বাসস্ট্যান্ডে একই রোডের একাধিক গাড়ি অবস্থান না করে শুধুমাত্র ইনস্ট্যান্ড সিরিয়ালে থাকা গাড়ি অবস্থান করতে পারে। একটি গাড়ি গন্তব্যের উদ্দেশ্য ছেড়ে যাওয়ার পর পরবর্তী গাড়ি সেখানে অবস্থান নিতে পারে।
৪. যানজট প্রবণ স্থানসমূহে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা।
৫. ইউনিয়ন থেকে আগত অটোরিকশার স্রোত পৌরসভায় প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা এবং তাদের জমায়েতের জন্য পৌর শহরের বাহিরে আলাদা স্টপেজ পয়েন্ট নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে।
৬. পৌরসভায় চলাচলকৃত অটোরিক্সার দৃশ্যমান স্থানে নাম্বার প্লেট বসানো এবং নতুন লাইসেন্স প্রদান সীমিত করা।
৭. পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য থানা মোড় ও মধুপুর রানী ভবানী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ফুটওভার ব্রিজ স্থাপন করা যেতে পারে।
৮. উল্টোপথে গাড়ি পরিচালনা নিরুৎসাহিত করা ও ড্রাইভারদের শাস্তির আওতায় আনা যেতে পারে।
যানজট একটি সামাজিক সমস্যা। যানজটের কবলে পড়ে যেমন মূল্যবান সময় অপচয় হয় ঠিক তেমনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের রাষ্ট্র। যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে মেজাজ হারিয়ে অনেক ড্রাইভার দূর্ঘটনায় পতিত হয়। অনেক সময় আমরা ডাক্তারদের মুখে শুনতে পাই আর কিছুক্ষণ আগে আসলে হয়তো রোগীকে বাঁচানো যেত! এমন পরিস্থিতি’তে ভুক্তভোগী স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাই নাগরিক সমস্যার বিষয়টি নজড়ে এনে যানজটের প্রতিকারের জন্য কতৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবে বলে আশা করছি।
লেখক
শিক্ষার্থী,
আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ




















