ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফলোআপঃ

ঘাটাইলে বৃদ্ধা আনোয়ারা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ৯ মাস পর বিকৃত মানসিকতার অভিযুক্ত সাইফুল আটক

ঘাটাইল করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোরডটকম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের আলোচিত বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম হত্যা মামলার প্রায় নয় মাস পর অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলাম (৪২) কে গ্রেফতার করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার ঘাটাইল থানা পুলিশ জানায়, হত্যার শিকার আনোয়ারা বেগম (৬৭) দেউলাবাড়ি এলাকার মৃত আব্দুস সালামের স্ত্রী। গত বছরের ২৫ আগস্ট স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত কূপ থেকে তার অর্ধ-নগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শাকের আলী বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর. কমে ঘটনার পর ২৬ আগস্ট প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন আনোয়ারা বেগম। ছেলে-মেয়েরা আলাদা থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তার সঙ্গে। গত বছরের ২৪ আগস্ট হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে বিষয়টি থানায় জানানো হয় এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজের পর পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে ২৫ আগস্ট বিকেলে দেউলাবাড়ি এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড় সংলগ্ন পরিত্যক্ত কূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে ঘাটাইল থানা পুলিশ। স্থানীয় তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, আলামত সংগ্রহ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মো. সাইফুল ইসলামকে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবীব খানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালিত হয়। ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোকছেদুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই রাজু আহমেদ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজিম উদ্দিন, এএসআই আমিনুল ও কনস্টেবল ওয়াজেদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল গত ২২ মে রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে থানা এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, গত বছরের ২৩ আগস্ট সকালে আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে তিনি ভিকটিমের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফলোআপঃ

ঘাটাইলে বৃদ্ধা আনোয়ারা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ৯ মাস পর বিকৃত মানসিকতার অভিযুক্ত সাইফুল আটক

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের আলোচিত বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম হত্যা মামলার প্রায় নয় মাস পর অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলাম (৪২) কে গ্রেফতার করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার ঘাটাইল থানা পুলিশ জানায়, হত্যার শিকার আনোয়ারা বেগম (৬৭) দেউলাবাড়ি এলাকার মৃত আব্দুস সালামের স্ত্রী। গত বছরের ২৫ আগস্ট স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত কূপ থেকে তার অর্ধ-নগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শাকের আলী বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর. কমে ঘটনার পর ২৬ আগস্ট প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন আনোয়ারা বেগম। ছেলে-মেয়েরা আলাদা থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তার সঙ্গে। গত বছরের ২৪ আগস্ট হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে বিষয়টি থানায় জানানো হয় এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজের পর পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে ২৫ আগস্ট বিকেলে দেউলাবাড়ি এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড় সংলগ্ন পরিত্যক্ত কূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে ঘাটাইল থানা পুলিশ। স্থানীয় তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, আলামত সংগ্রহ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মো. সাইফুল ইসলামকে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবীব খানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালিত হয়। ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোকছেদুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই রাজু আহমেদ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজিম উদ্দিন, এএসআই আমিনুল ও কনস্টেবল ওয়াজেদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল গত ২২ মে রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে থানা এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, গত বছরের ২৩ আগস্ট সকালে আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে তিনি ভিকটিমের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন।