ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধনবাড়ীতে পূর্ণিমার রাতে প্রযত্ন’র আয়োজনে বাউল ও পালাগানের আসর

ধনবাড়ী করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তা২৪. কম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

অর্গানিক খাদ্যপণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র ‘প্রযত্ন’-এর অষ্টম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার পাতলাচড়া গ্রামে বসেছিল বাউল ও পালাগানের মনোমুগ্ধকর আসর। ভরা পূর্ণিমার রাতে গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির এ আয়োজনে মেতে ওঠেন নানা বয়সী মানুষ। বিশেষ করে রাতভর অনুষ্ঠানে গ্রামের নারী ও মায়েদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত পৌনে ৩টা পর্যন্ত ‘প্রযত্ন’-এর ঘানিঘরের সামনের আঙিনায় এ আয়োজন চলে। ‘প্রযত্ন’-এর আয়োজনে এবং পাতলাচড়া গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের শুরু হয় বাউল মুক্তার হোসেন ও তাঁর দলের ভাব-বৈঠকী গানের মধ্য দিয়ে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয় লোকজ কিচ্ছা গানের পালা। ‘গহর বাদশাহ-বানেছা পরীর গল্পগাথা’ অবলম্বনে এ পালাগান পরিবেশন করেন মধুপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামের কিতাব আলী ও তাঁর দল। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাঁদের পরিবেশনা। গানের সুর, কাহিনি আর অভিনয়ের আবহে দর্শক-শ্রোতারা যেন হারিয়ে যান লোককথার সেই চেনা জগতে।

ভরা পূর্ণিমার আলোয় দুঃখ-কষ্ট ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা ভুলে গ্রামের মানুষ সারারাত উপভোগ করেন গহর বাদশাহ ও বানেছা পরীর প্রেমকাহিনিনির্ভর এ লোকগাথা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ এবং বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের উপস্থিতি ও আগ্রহে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

অনুষ্ঠান শেষে গ্রামের সবার জন্য ছিল চামারা চাল দিয়ে রান্না করা সবজি-ডালের খিচুড়ি বিতরণের আয়োজন।

‘প্রযত্ন’-এর পরিচালক ইকবাল হোসেন জুপিটার বলেন, “পাতলাচড়া গ্রামের মানুষ অনুষ্ঠানটিকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছেন। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল—রাতব্যাপী এই আয়োজনে গ্রামের নারী ও মায়েদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।”

আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে এমন বাউল, ভাব-বৈঠকী গান ও পালাগানের আয়োজন গ্রামীণ লোকঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে লোকসংস্কৃতির শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ধনবাড়ীতে পূর্ণিমার রাতে প্রযত্ন’র আয়োজনে বাউল ও পালাগানের আসর

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

অর্গানিক খাদ্যপণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র ‘প্রযত্ন’-এর অষ্টম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার পাতলাচড়া গ্রামে বসেছিল বাউল ও পালাগানের মনোমুগ্ধকর আসর। ভরা পূর্ণিমার রাতে গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির এ আয়োজনে মেতে ওঠেন নানা বয়সী মানুষ। বিশেষ করে রাতভর অনুষ্ঠানে গ্রামের নারী ও মায়েদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত পৌনে ৩টা পর্যন্ত ‘প্রযত্ন’-এর ঘানিঘরের সামনের আঙিনায় এ আয়োজন চলে। ‘প্রযত্ন’-এর আয়োজনে এবং পাতলাচড়া গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের শুরু হয় বাউল মুক্তার হোসেন ও তাঁর দলের ভাব-বৈঠকী গানের মধ্য দিয়ে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয় লোকজ কিচ্ছা গানের পালা। ‘গহর বাদশাহ-বানেছা পরীর গল্পগাথা’ অবলম্বনে এ পালাগান পরিবেশন করেন মধুপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামের কিতাব আলী ও তাঁর দল। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাঁদের পরিবেশনা। গানের সুর, কাহিনি আর অভিনয়ের আবহে দর্শক-শ্রোতারা যেন হারিয়ে যান লোককথার সেই চেনা জগতে।

ভরা পূর্ণিমার আলোয় দুঃখ-কষ্ট ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা ভুলে গ্রামের মানুষ সারারাত উপভোগ করেন গহর বাদশাহ ও বানেছা পরীর প্রেমকাহিনিনির্ভর এ লোকগাথা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ এবং বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের উপস্থিতি ও আগ্রহে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

অনুষ্ঠান শেষে গ্রামের সবার জন্য ছিল চামারা চাল দিয়ে রান্না করা সবজি-ডালের খিচুড়ি বিতরণের আয়োজন।

‘প্রযত্ন’-এর পরিচালক ইকবাল হোসেন জুপিটার বলেন, “পাতলাচড়া গ্রামের মানুষ অনুষ্ঠানটিকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছেন। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল—রাতব্যাপী এই আয়োজনে গ্রামের নারী ও মায়েদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।”

আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে এমন বাউল, ভাব-বৈঠকী গান ও পালাগানের আয়োজন গ্রামীণ লোকঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে লোকসংস্কৃতির শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।