আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবসে নদী রক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

- আপডেট সময় : ১০:০৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫ ২০৭ বার পড়া হয়েছে

নদী মাতৃক বাংলাদেশের নদীই প্রাণ। একসময় নদীকে কেন্দ্র করেই এদেশের মানুষের জীবন প্রবর্তিত হতো, কিন্তু আজ সেগুলো সোনালি অতীত। দখল-দূষণ আর নদী শাসনের নামে নদীতে বাঁধ দিয়ে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে এবং দেশের অধিকাংশ নদী আজ যৌবন হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীর প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা ও নদী রক্ষার গুরুত্ব স্মরন করিয়ে দেয়ার জন্য ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবস পালন হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবসে কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের ভাবনার কথা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। গ্রন্থনা করেছেন: খন্দকার বদিউজ্জামান বুলবুল ।
❝নদী প্রাণ ফিরে পাক❞
নদীমাতৃক দেশ আমার প্রিয় বাংলাদেশ। প্রকৃতির অপার দান হিসেবে আমরা পেয়েছি ছোট বড় মিলিয়ে অসংখ্য নদ -নদী।প্রবাহমনতা নদীর প্রাণ। কিন্তু দুঃখের সাথে লিখতে হয় বিভিন্ন কারণে এবং পার্শ্ববর্তী দেশের স্বেচ্ছাচারিতায় আজ আমাদের নদীগুলোর প্রবাহমানতায় বাধার জন্য, নদী থেকে যেসব অবারিত সম্ভাবনা ও সুযোগ ছিল তা থেকে আমার মাতৃভূমি বঞ্চিত হচ্ছে। কলেজ জীবন থেকে নদীরক্ষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত আছি।পরিবর্তিত এ বাংলাদেশে নদীদূষণ ও নদীদখল রোধে নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করা সময়ের দাবি।আসুন সবাই নদী রক্ষার্থে সবাই সোচ্চার হই।নদী তার প্রাণ ফিরে পাক।
লেখক- মোহাম্মদ তুহিন আলম, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
❝নদী রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে❞
আজ ১৪ মার্চ, আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবস।তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারও দিবসটি পালন করছে, জনগণের মাঝে নদী ও জলসম্পদ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে। নদীমাতৃক এ দেশে অসংখ্য নদী আমাদের জীবন-জীবিকার মূল ভিত্তি। কিন্তু দূষণ, দখল ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে এসব নদী আজ বিপন্ন। মৃতপ্রায় নদীগুলো রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। টেকসই উন্নয়নের জন্য নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা অপরিহার্য। আসুন, আমরা সবাই মিলে নদী রক্ষায় এগিয়ে আসি, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
লেখক- শফিকুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
❝নদী প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ❞
নদী প্রকৃতির এক অমূল্য দান যা আমাদের জীবন ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।এটি শুধু পানি বহন করে না, বরং কৃষি পরিবহন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীর পানি সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়,যা কৃষির প্রধান সহায়ক। কিন্তু দখল ও দূষণের কারণে আজ অনেক নদী বিপন্ন । আমাদের উচিত নদী রক্ষা করা , পরিষ্কার রাখা এবং স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা।কারণ, সুস্থ নদী মানেই সুস্থ প্রকৃতি ও সুন্দর ভবিষ্যৎ।
নদী আমাদের পরিবেশ ও জীবনের অপরিহার্য অংশ।এটি কৃষি, পরিবহন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দখল, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীগুলো বিপন্ন হচ্ছে। শিল্প কারখানায় বর্জ্য, প্লাস্টিক ও আবর্জনা নদীর পানি দূষিত করছে ।অবৈধ দখল রোধ , নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা ও বনায়ন বাড়ানোর জরুরি। আমাদের সবার দায়িত্ব নদীকে রক্ষা করা, সুস্থ নদী মানেই প্রাণবন্ত প্রকৃতি ও উন্নত ভবিষ্যৎ।
লেখক- মাইসারা সুলতানা মৈত্রী, শিক্ষার্থী, আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ
❝নদী বাঁচাও, মায়ের সম্মান ফিরিয়ে দাও❞
নদীমাতৃক বাংলাদেশ, অর্থাৎ নদীকে আমরা মায়ের সাথে তুলনা করি। এই নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল মানবসভ্যতা, সমাজব্যবস্থা, বানিজ্য নগর। এমনকি আমরা বাঙালি খাদ্যাভ্যাসের বিশেষ প্রবাদবাক্য হলো আমরা মাছে ভাতে বাঙালি, যেই মাছের বড় একটা উৎস নদী। যেই জাতীয় মাছ ইলিশ, সেই ইলিশ-ও নদী থেকে আসে। কিন্তু আফসোস আমরা নদীকে সেই মর্যাদা দিতে ব্যর্থ। কলকারখানার বর্জ্য, প্লাস্টিক ও অপচনশীল বস্তু প্রতিনিয়ত ফেলি এবং মানবদেহে প্রবেশ করাচ্ছি মাইক্রো প্লাস্টিক। অবৈধভাবে নদীর সীমানা দখল ও ভরাট করে বন্যার পানি নিষ্কাশন ব্যাবস্থা বন্ধ করছি। আসুন যেই নদীকে মাতৃতুল্য করেছি, সেই নদীকে মায়ের সমান মর্যাদা দিই, নদী বাঁচাই।
লেখক- মীর রাসেল, শিক্ষার্থী, টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
❝আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবস : আমাদের দায়িত্ত্ব❞
আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবস আমাদেরকে স্বরণ করিয়ে দেয় যে, নদীগুলোর সুরক্ষা, দখল ও দূষণমুক্ত রাখা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অপরিসীম । আমরা দেখছি যে, জলবায়ু পরিবর্তন, শিল্পবর্জ্য ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের ফলে বিশ্বজুড়ে নদীগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। আমাদের উচিত পৃথিবীব্যাপী নদীর প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা ও মানবকল্যাণের নিশ্চয়তার জন্য কাজ করা। তাই চলো নদী বাঁচাই, পৃথিবী বাঁচাই!
লেখক- মোহাম্মদ সিফাতুল্লাহ, শিক্ষার্থী, রাধানগর ব্রাহ্মণবাড়ী ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা
“নদী দখল রোধ করো,
জলবায়ু পরিবর্তন থেকে দেশ রক্ষা করো।”
-আমরা আগে বইতে পড়েছি, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। কিন্তু পাঠক যদি তার বাড়ির পাশের নদীর দিকে খেয়াল করেন তবে বুঝতে পারবেন এদেশের নদী মাতৃকতা কতটুকু বহাল আছে। প্রথম আলোর ২০২০ সালের এক প্রতিবেদনে এসেছ ‘দেশে গত ৫৭ বছরে ১৫৮টি নদী শুকিয়ে গেছে আরও ১১৫টি নদ-নদী শুকিয়ে মৃতপ্রায়।’ সরকার একদিকে নদী সংস্কারের কাজ হাতে নিচ্ছে অন্যদিকে দখলদারি সমাজ সেটা ভরাট করে নিজের জমি বাড়াচ্ছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সারাদেশে নদী দখলদারের সংখ্যা ৬৩ হাজার ২৪৯। এভাবে চলতে থাকলে দেশ আগামীর জলবায়ু পরিবর্তন ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে পারবে না। সরকারের কাছে দাবি তারা যেন দ্রুত নদী রক্ষা কমিশনের মাধ্যমে মৃত নদীতে জীবন ফিরিয়ে আনে এবং এই প্রতিটা নদী দখলদার কে ভয়াবহ শাস্তির আওতায় আনেন। সর্বপরি আমজনতা সকলের কাছে আমার অনুরোধ, আমরা যেন সচেতন নাগরিকের দ্বায়িত্ব পালন করি ও নদী দখল মুক্ত দেশ গড়ি।
লেখক- খালিদ মঞ্জিল মুজাহিদ, শিক্ষার্থী, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা