ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুপুরে আদিবাসী পরিবারে হামলার অভিযোগ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল

মধুপুর করেসপন্ডন্ট, শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাঁদপুর এলাকায় আদিবাসী নারী ও শিশুদের ওপর হামলা ও বসতভিটায় আক্রমণের অভিযোগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মানবাধিকার সংগঠন সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস–এর একটি প্রতিনিধি দল।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে প্রতিনিধি দলটি মধুপুরের পূর্ব ধরাটি গ্রামে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গারো পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরান, ব্লাস্টের টাঙ্গাইলের স্টাফ ল’ইয়ার শামসিন্নাহার লিজা ও আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সতেজ চাকমা।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, গত ৯ মার্চ চাঁদপুর রাবারবাগানের কালো পাহাড় এলাকায় নতুন ঘর নির্মাণের সময় বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যরা স্থানীয় এক গারো পরিবারের নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আনসার সদস্যকে এক নারী সদস্যের দিকে রাইফেল তাক করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের দৃশ্যও দেখা যায়।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক যেন এভাবে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে আদিবাসীদের বন ও ভূমি রক্ষার প্রশ্নে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
ঘটনার পরদিন মির্জা জুবায়ের হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও ছয় হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনকে না জানিয়ে এ ধরনের অভিযান না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সহায়তায় ওই দম্পতির নতুন ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। এমন সময়ে সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস–এর প্রতিনিধি দল পরিবারটির সাথে দেখা করে ঘটনা সম্পর্কে তথ্য নিয়ে গেল।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আদিবাসী নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মধুপুরে আদিবাসী পরিবারে হামলার অভিযোগ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল

আপডেট সময় : ১২:০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাঁদপুর এলাকায় আদিবাসী নারী ও শিশুদের ওপর হামলা ও বসতভিটায় আক্রমণের অভিযোগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মানবাধিকার সংগঠন সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস–এর একটি প্রতিনিধি দল।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে প্রতিনিধি দলটি মধুপুরের পূর্ব ধরাটি গ্রামে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গারো পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরান, ব্লাস্টের টাঙ্গাইলের স্টাফ ল’ইয়ার শামসিন্নাহার লিজা ও আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সতেজ চাকমা।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, গত ৯ মার্চ চাঁদপুর রাবারবাগানের কালো পাহাড় এলাকায় নতুন ঘর নির্মাণের সময় বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যরা স্থানীয় এক গারো পরিবারের নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আনসার সদস্যকে এক নারী সদস্যের দিকে রাইফেল তাক করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের দৃশ্যও দেখা যায়।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক যেন এভাবে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে আদিবাসীদের বন ও ভূমি রক্ষার প্রশ্নে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
ঘটনার পরদিন মির্জা জুবায়ের হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও ছয় হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনকে না জানিয়ে এ ধরনের অভিযান না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সহায়তায় ওই দম্পতির নতুন ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। এমন সময়ে সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস–এর প্রতিনিধি দল পরিবারটির সাথে দেখা করে ঘটনা সম্পর্কে তথ্য নিয়ে গেল।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আদিবাসী নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।