ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ অবমাননার অভিযোগ, ব্যাখ্যা তলব

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এর একটি আদেশ অবমাননার অভিযোগে ময়মনসিংহের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে রুল (ব্যাখ্যা তলব) জারি করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ-এর অধীন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হাইস্কুল-এর প্রধান শিক্ষক ছৈয়দ রায়হান উদ্দীনের দায়ের করা আদালত অবমাননার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং মো. আসিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ গত ২৬ এপ্রিল এ রুল জারি করেন।

অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ছৈয়দ রায়হান উদ্দীনের নিয়োগ ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এখতিয়ারভুক্ত। তবে প্রযোজ্য আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর, ২৯ ডিসেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারির আদেশে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

এই কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করে ছৈয়দ রায়হান উদ্দীন হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত গত বছরের ১৩ মে তদন্ত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন এবং একই সঙ্গে তার দাখিল করা ৮ মে ২০২৫ তারিখের আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ২৯ মে ও ২৬ জুন আদালতের আদেশের অনুলিপি গ্রহণ করলেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। এ বিষয়ে বারবার লিখিতভাবে তাগাদা দেওয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন দায়ের করা হয়।

এদিকে, রিট পিটিশনের রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ছৈয়দ রায়হান উদ্দীনকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকার চেয়ে তিনি চলমান রিটে পৃথক আবেদন করলে আদালত ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সাপ্লিমেন্টারি রুল এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন, যা বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে ছৈয়দ রায়হান উদ্দীনের আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এডভোকেট ড. উত্তম কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ল্যান্ডফোনে যোগাযোগ করেও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ অবমাননার অভিযোগ, ব্যাখ্যা তলব

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এর একটি আদেশ অবমাননার অভিযোগে ময়মনসিংহের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে রুল (ব্যাখ্যা তলব) জারি করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ-এর অধীন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হাইস্কুল-এর প্রধান শিক্ষক ছৈয়দ রায়হান উদ্দীনের দায়ের করা আদালত অবমাননার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং মো. আসিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ গত ২৬ এপ্রিল এ রুল জারি করেন।

অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ছৈয়দ রায়হান উদ্দীনের নিয়োগ ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এখতিয়ারভুক্ত। তবে প্রযোজ্য আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর, ২৯ ডিসেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারির আদেশে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

এই কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করে ছৈয়দ রায়হান উদ্দীন হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত গত বছরের ১৩ মে তদন্ত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন এবং একই সঙ্গে তার দাখিল করা ৮ মে ২০২৫ তারিখের আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ২৯ মে ও ২৬ জুন আদালতের আদেশের অনুলিপি গ্রহণ করলেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। এ বিষয়ে বারবার লিখিতভাবে তাগাদা দেওয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন দায়ের করা হয়।

এদিকে, রিট পিটিশনের রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ছৈয়দ রায়হান উদ্দীনকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকার চেয়ে তিনি চলমান রিটে পৃথক আবেদন করলে আদালত ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সাপ্লিমেন্টারি রুল এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন, যা বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে ছৈয়দ রায়হান উদ্দীনের আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এডভোকেট ড. উত্তম কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ল্যান্ডফোনে যোগাযোগ করেও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।