সংবাদ শিরোনাম :
“রমজানে স্বাস্থ্যকর ইফতারের প্রয়োজনীয়তা”

খন্দকার বদিউজ্জামান বুলবুল
- আপডেট সময় : ১১:০৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫ ১২০ বার পড়া হয়েছে

শুরু হয়েছে সিয়াম সাধনার মাস। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মানব জীবনে শৃঙ্খলা ও সুস্থতার শিক্ষায় দেয়। মাহে রমজানে খাদ্যাভাস, জীবনযাপন ও খাবার গ্রহনের সময়ে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। সারাদিন রোজা রাখতে হয় বিধায় ইফতারে খাবার হতে হবে সুষম ও সুনিয়ন্ত্রিত। দীর্ঘক্ষণ পানাহার থেকে বিরত থাকার কারনে ইফতার হতে হবে সুষম ও সহজপাচ্য। ভারী খাবার খেলে বদহজম বা বদহজম জনিত জটিলতা হওয়ার সম্ভবনা থাকে। ইফতারে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অতিরিক্ত তৈল-চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহন থেকে বিরত থাকতে হবে। চর্বি জাতীয় খবার গ্রহনে শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ইফতারে যতদূর সম্ভব ভাজাপোড়া ও তেল-মসলা জাতীয় মুখরোচক খাবার পরিহার করতে হবে। কেননা ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার গ্রহনে গ্যাস্ট্রিক, হজমে সমস্যা, হৃদরোগ, ক্যান্সার ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই মাহে রমজানে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ইদানীং অসাধু ব্যবসায়ীরা খেজুরেও কারসাজি করছে যা আমাদের জন্য অশনী সংকেত। শহর থেকে গ্রামে আমরা বিকালের দিকে প্রায় সর্বত্রই ভ্রাম্যমাণ ইফতারি দোকান ও রেস্টুরেন্টে ইফতারি আইটেম লক্ষ্য করি। সেখানে বিভিন্ন মুখরোচক ইফতারি আইটেম বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে তেলে ভাজা পেয়াজু, বেগুনি, চপ, সমুচা, জিলাপি, হালিম এবং মসলা জাতীয় বিভিন্ন খাবার। শহরের কর্মব্যস্ত মানুষজন ও হোস্টেলের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষজন এবং ব্যস্ততার কারনে ইফতারি তৈরীর সুযোগ নেই এমন মানুষজন এসব দোকানের নিয়মিত ক্রেতা। ভ্রাম্যমাণ ইফতারির দোকানগুলোর খাবার সাধারণ দীর্ঘক্ষণ খোলা অবস্থায় রাখা হয়। যার ফলে দেখা যায় সেখানে ধুলো-ময়লা ও রোগ জীবাণু বিস্তার লাভ করে। এছাড়াও অনেক খাবার তৈরীতে রাসায়নিক পদার্থ ও অপ্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা হয়। যা শরীরের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। অনেক সময় জিলাপি ও হালিমে কৃত্রিম রং মিশ্রিত করা হয় এবং জিলাপি মচমচে রাখতে পোড়া তেল ব্যবহার করা হয়। যা লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। তাই সবদিক বিবেচনায় বাহিরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী ইফতারি আইটেম কেনায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন।
মাহে রমজানে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক থাকার জন্য সুষম ও পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন জরুরি। ইফতারে আমাদের এমন খাবার নির্বাচন করা উচিত যা আমাদের শরীরে দ্রুততার সহিত শক্তি পুনরুদ্ধার বা আমাদের শরীরকে চাঙা করবে। ইফতার একটি বা দুইটি খেজুর দিয়ে করা উচিত। খেজুর প্রাকৃতিকভাবে গ্লুকোজ ও ফাইবার সমৃদ্ধ যা শরীরে দ্রুত শক্তির সঞ্চার করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। খেজুর নানাবিধ উপকার সমৃদ্ধ। এছাড়া ইফতারে আমরা বাহারি রকমের ফল রাখতে পারি। তরমুজ, শশা, কলা, পেপে ইত্যাদি যা শরীরের জন্য অতন্ত্য উপকারী। ফল শরীরকে আদ্র রাখে এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে। সেই সাথে হজম প্রক্রিয়া সহজ করে। ফলে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং পানিশূন্যতা দূর করে। ইফতারে আমাদের নিত্য সঙ্গী ছোলা বুট। ছোলা প্রোটিন সমৃদ্ধ এবং এটি দেহের পেশিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক। সেই সাথে ছোলা দীর্ঘ সময় শরীরে শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়ার জন্য উপকারী। আমরা ইফতারে দুধ ও দই রাখতে পারি। দুধ ও দই দেহের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করে। দই গ্যাস্ট্রিক সমস্যা লাগব করে এবং অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করে হজমে সহায়তা করে। সারাদিন রোজা রাখার ফলে দেহে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই ইফতারে আমাদের প্রচুর পানি পান করা উচিত। লেবুর সরবত, ডাবের পানি শরীরকে আদ্র ও সতেজ রাখে। ইফতারে বিভিন্ন সবজি ও খিচুড়ি খেতে পারেন যা স্বাস্থ্যসম্মত। আবার ইফতারে একেবারে বেশী খাওয়া অনুচিত। এতে শারীরিক জটিলতা ও অসুবিধা হতে পারে। রমজানে ইফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সঠিক নিয়মে ও স্বাস্থ্য সম্মতভাবে ইফতার করলে শরীর ও মন ভালো থাকে এবং রোজা রাখতে সহজ হয়। পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার দিয়ে ইফতার করার মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরন হয় এবং রোজাদারকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখে।